যুদ্ধাহতের ভাষ্য-৫ ‘‘কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী আমি’’


সালেক খোকন
যুদ্ধাহতের ভাষ্য-৫ ‘‘কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী আমি’’
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৩

Bdnews-1 দিনটি ছিল ২৩ মার্চ ১৯৭১। মধ্যরাত। কালসী আহুরা গ্রামে আগুন দেয় বিহারিরা। আগুনে পুড়ে ছাই হয় এক মাস্টারের বাড়ি। শুরু হয় লুটপাট। পরের দিনই দুয়ারীপাড়ায় আগুন দেয় তারা। প্রাণভয়ে আমরা চলে যাই তুরাগ নদীর ওপারে। আশ্রয় নিই বিরুলিয়া গ্রামে।

ঢাকায় আর্মি নামে ২৫ মার্চ রাতে। লোকমুখে সে খবর ছড়িয়ে পড়ে। সবার মধ্যে তখন আতঙ্ক। অজানা ভয়। আর্মি আসার শঙ্কা নিয়েই কাটতে থাকে আমাদের দিনগুলো…

২৩ এপ্রিল সকাল। ঘরে কোনো খাবার নেই। বাবা বললেন, ‘চল, লাল ধান কেটে আনি’। গাঙের পাড়ে ছিল আমাদের জমি। বিকেল পর্যন্ত ধান কেটে আমরা তা মাঠেই স্তূপ করে রাখি। ধান নিতে নৌকা নিয়ে আসবে ছোটভাই আমজাদ মোল্লা। আমরা তার অপেক্ষায় থাকি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। তবুও আমজাদের দেখা নেই।

পাশেই ছিল আলব্দী গ্রাম। আমার বাবা ও মায়ের নানাবাড়ি। গ্রামের প্রায় সকলেই নিকটাত্মীয়। আমরা রাতটা ওইগ্রামেই কাটানোর সিদ্ধান্ত নিই। উঠি আমার খালু রোস্তম বেপারির বাড়ি।

আলব্দী গ্রাম তখন নারী ও শিশুশূন্য। বাড়িগুলোর পাহারায় পুরুষরা। সময়টা ধান কাটার। তাই বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা কৃষাণরাও আশ্রয় নেয় গ্রামে।

২৪ এপ্রিল ১৯৭১। ভোর তখনও হয়নি। আলব্দী গ্রামের পশ্চিমে তুরাগ নদীর পাড়ে পাকিস্তানি সেনাদের হেলিকপ্টার নামে। দূর থেকে আমরা তা স্পষ্ট দেখি। নেমেই তারা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আগুন ধরিয়ে দেয় বাড়িগুলোতে।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ্ব আমির হোসেন মোল্লা নিজে দেখেছেন কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞ

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ্ব আমির হোসেন মোল্লা নিজে দেখেছেন কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞ

গ্রামে ঢোকার একমাত্র পথটি ছিল কাদের মোল্লা ও বিহারি আক্তার গুণ্ডা, নেওয়াজ ও ডোমাদের দখলে। তারাও দলবল নিয়ে আলব্দী গ্রামে ঢোকে সশস্ত্র অবস্থায়। পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে অংশ নেয় হত্যাযজ্ঞে। গ্রামের নিরীহ, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে নির্বিচারে। পাশাপাশি চলে বাড়ি বাড়ি লুটতরাজ।

খালুকে পালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলেন বাবা। কিন্তু তিনি যেতে রাজি হন না। বাবা তখন আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। উত্তরদিকে ক্ষেতের পাশে ছিল একটি ছোট্ট খাল। খালের কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে থেকে আমরা তাদের হত্যাযজ্ঞ দেখি।

সকাল তখন আনুমানিক ৯টা। কুয়াশা পুরোপুরি কেটে গেছে। খালের ৫০ গজ দূরে ধরে আনা হয় ৫০-৬০ জনকে। তাদের লাইন ধরে দাঁড় করায় কাদের মোল্লার লোকেরা। হঠাৎ গুলির শব্দ। একে একে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে লাইনের সবাই। পড়েই ছটফট করতে থাকেন। মা গো, বাবা গো– আর্তচিৎকারে ভারি হয়ে উঠে আলব্দী গ্রামের বাতাস।

লাশগুলো পরে ফেলে দেওয়া হয় গ্রামেরই তিনটি কূপে। কিছু লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় তুরাগে। আমার খালুর লাশ পড়েছিল বারান্দাতে। বাড়িটি পুড়িয়ে দেয় পাকিস্তানি সেনা ও কাদের মোল্লার লোকেরা। আগুনে ঝলসে গিয়েছিল খালুর শরীরের অর্ধেকটা।

কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞ দেখেছি আমি। ওইদিন তারা হত্যা করে ৩৪৪ জনকে। ৬৪ জন গ্রামের স্থানীয় লোক। বাকিরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা কৃষাণ। স্থানীয়দের মধ্যে ২১ জনই ছিলেন আমার নিকটাত্মীয়। তারা হলেন– রুস্তম আলী, সলিমউল্লাহ, আ. আউয়াল মোল্লা, সুলেমান মোল্লা, করিম মোল্লা, জয়নাল মোল্লা, কাশেম মোল্লা, বদরুদ্দিন, জোরা মোল্লা, বিশু মোল্লা, অজল হক, ফজল হক, রহমান বেপারী, নবী মোল্লা, আলামত মিয়া, ধনা মৌলভী, ফুলচান, নওয়াব মিয়া, ইয়াছিন বানু, লালু চান ও সুনু মিয়া।

কাদের মোল্লাকে কীভাবে চিনলেন?

‘‘মুক্তিযুদ্ধের আগেই আক্তার গুণ্ডা, ডোমা, নেওয়াজ ও কাদের মোল্লাকে চিনতাম। মিরপুরে বিহারি রিফিউজিদের সংখ্যা ছিল বেশি। মাত্র পঞ্চাশটির মতো পরিবার ছিল বাঙালি। ওরা নির্ভরশীল ছিল সরকারি রিলিফের ওপর। বাঙালিদের গাছ থেকে ওরা আম-কাঁঠাল চুরি করে নিত। এ নিয়ে বহুবার তাদের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব হয়েছে। কখনও-কখনও তা রূপ নিয়েছে হাতাহাতিতে।

এছাড়া সত্তরের নির্বাচনে আমরা ছিলাম বঙ্গবন্ধুর পক্ষে। জামায়াতে ইসলামের দাড়িপাল্লার পক্ষে ছিল ওরা। মিরপুরে বিহারিদের নেতৃত্ব দিত আক্তার গুণ্ডা। তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা ও রাজাকার বাহিনীর অন্যতম সংগঠক কাদের মোল্লা। স্থানীয় মেম্বার লতিফও ছিল তাদের পক্ষে সক্রিয়। মিরপুর ১০ নম্বরে তাদের একটি কার্যালয় ছিল। ওখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, মীর আবুল কাশেম, সরদার আবদুস সালাম প্রমুখের।’’

১৯৭১ এ কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞের কথা এভাবেই বলছিলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আমির হোসেন মোল্লা। মিরপুরে আলব্দী গ্রামের গণহত্যায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৮ সালে ২৩ জানুয়ারিতে তিনিই প্রথম জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাসহ দশজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ওই পিটিশনটি পল্লবী থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয় ২৫ জানুয়ারি তারিখে। মামলার নং ৬০।

হাঁটুর উপরের ক্ষত দেখাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্রা

হাঁটুর উপরের ক্ষত দেখাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্রা

মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লার বাড়ি ঢাকা মহানগরের পল্লবী থানার দুয়ারীপাড়ায়। বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। তার বাবার নাম সুরজত আলী মোল্লা ও মা রাহিমা খাতুন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। শিক্ষাজীবনের শুরু মিরপুরের সিন্তাত হাই স্কুলে। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের গুলির আঘাতে তার ডানপায়ের হাঁটুর ওপরে ও ডানহাতে মারাত্মক জখম হয়।

আলাপচারিতায় কথা উঠে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘‘ওইদিন আমরা প্রায় তিনশ জন গিয়েছিলাম রেসকোর্স ময়দানে। সবার হাতে হাতে ছিল বাঁশের লাঠি। মিরপুরে আমাদের নেতৃত্ব দেন মান্নান খান ও আক্কাস মেম্বার। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দিব। তবু এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’ শুনেই লাঠি উঁচিয়ে আমরা ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান তুললাম। সেদিন দেশের জন্য অন্যরকম এক অনুভূতি নিয়ে ফিরছিলাম। বুঝেছিলাম সংগ্রাম ছাড়া মুক্তি নেই।’’

আপনারা তখন কী করলেন?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে সাতদিনের ট্রেনিং দেওয়া হয় আমাদের। মন্টু ভাই ছিলেন ট্রেনার। ফিরে এসে নিজ উদ্যোগে বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভেতর আমি ২৭ জনকে কাঠের রাইফেল দিয়ে ট্রেনিং করাই।’’

মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে আমির হোসেন বলেন, ‘‘আলব্দী গ্রামের হত্যাযজ্ঞ আমাকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। তখনই সিদ্ধান্ত নিই মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার। কিন্তু বাবা-মা টের পেয়ে যান। আমাকে আটকে রাখতে তারা আমায় বিয়ে করিয়ে দেন। কিন্তু সে মায়ার বাঁধনও আমাকে আটকাতে পারেনি। বিয়ের সতের দিনের মাথায় আমি গোপনে বাড়ি ছাড়লাম। মায়ের কোমরের বিছা আর ৫৬ টাকা ছিল সম্বল।’’

কোথায় ট্রেনিং করলেন?

‘‘সময়টা মে মাসের মাঝামাঝি। মহির উদ্দিন, আবু নাসের, আবদুল হালিম, ফজল হক ও সাত্তারসহ নৌকাযোগে আমরা আমিনবাজার হয়ে আসি কেরানিগঞ্জে। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা মান্নান আমাদেরকে একটি চিঠি লিখে দেন। কামারের দোকানে রুপার একটা তাবিজ বানিয়ে তার ভেতর রাখি ওই চিঠি। তাবিজটি আমার গলায় ছিল। সদরঘাট থেকে কুমিল্লা দশআনির মোহরপুর হয়ে আমরা পৌঁছি কুমিল্লা কাইতলায়। চিঠি দেখিয়ে ও মাথাপিছু ৬ টাকার বিনিময়ে সেখানে ওদুদ মিয়া নামে এক লোক আমাদের পৌঁছে দেয় ভারতের আগরতলায়।

খয়েরপুর দুর্গা চৌধুরীপাড়া ইছামতি বিজনা ক্যাম্পে নাম লেখাই আমরা। সেখান থেকে আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় আসামের কাছাড় জেলার লায়লাপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে। সেখানে ছিল তিনটি ক্যাম্প। এম উইং, এন উইং ও টি উইং। এম (মুজিব) উইং-এ আমি ছিলাম ৬ নং স্কোয়াড আলফা কোম্পানিতে। আমাদের ট্রেনিং হয় ২৮ দিন। ২১ দিন অস্ত্র ও ৭ দিন গেরিলা ট্রেনিং। আমার এফএফ নাম্বার ছিল ৯১৯৯৭। ট্রেনিং শেষে মেলাঘরে আমাদের শপথ করান কর্ণেল আতাউল গনি ওসমানী।’’

কোথায় কোথায় যুদ্ধ করলেন?

মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন বলেন, ‘‘আমরা ছিলাম গেরিলা। আক্রমণ করেই সরে পড়তাম। ২১ জনের দলে আমাদের কমান্ডার ছিলেন মো. হানিফ। সহকারী কমান্ডার মো. রফিক। আমি ছিলাম উত-কমান্ডার (অস্ত্র রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার)। অস্ত্র জমা রাখা হত আমার কাছে। ২ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দারের নির্দেশে আমরা যুদ্ধ করি মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায়। সাদুল্লাপুর বাজার, বাটুলিয়া গ্রাম, আরিচা থেকে আমিনবাজার ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা দখল, নতুন বিমানবন্দর এলাকায় ২৮ রাজাকার আটক প্রভৃতি অপারেশনের কথা আজও মনে পড়ে।’’

গুলিবিদ্ধ হলেন কোন অপারেশনে?

প্রশ্ন শুনে মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা আবেগাপ্লুত হন। অতঃপর বলতে থাকেন, ‘‘১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১। মিরপুর তখনও স্বাধীন হয়নি। আমরা ছিলাম বিরুলিয়ার একটি বাড়িতে। ত্রিশ-বত্রিশজন। রাত তখন ২ টা। হঠাৎ খবর আসে বিরুলিয়া ঘাটে পাঞ্জাবি আসার। আমরা দ্রুত সেখানে পজিশন নিই।

ঘন কুয়াশা। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। ভোর হতেই দেখলাম নদীর দিকে কুয়াশাভাঙা রাস্তা। জেলেরাও বলল, ওই পথেই গেছে ৭ জন পাঞ্জাবি। নদীর তে-মোড়ায় (ত্রিমোহনা) গিয়ে আমরা তাদের অ্যাটাক করব, এমনটাই ছিল পরিকল্পনা। তুরাগ পার হয়ে আমরা চকের মধ্যে চলে আসি। আমাদের নেতৃত্বে সহকারী কমান্ডার রফিক। তিনটি দলে আমরা তিনদিকে এগোই। আমি পূর্বপার্শ্বে। সঙ্গে সাত্তার ও মহিউদ্দিন। পাঁচজন গেল পশ্চিম পাশ দিয়ে। রফিক কমান্ডার চারজনকে নিয়ে এগোয় মাঝ বরাবর।

আমরা পাঞ্জাবিদের ১৫০ গজের মধ্যে চলে আসি। হঠাৎ পূর্বদিকের বোটানিক্যাল গার্ডেনের শেষ অংশে জন্দী রাডার ক্যাম্প থেকে বৃষ্টির মতো গুলি আসতে থাকে। পাকিস্তানি সেনা, রাজাকার ও বিহারিদের শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল সেটি। আমাদের লক্ষ্য করে তারা মর্টার নিক্ষেপ করে। আমরাও গুলি ছুঁড়ি। কিন্তু তোপের মুখে টিকতে পারি না।

ঘণ্টাদুয়েক চলে গোলাগুলি। হঠাৎ পেছন দিকে ‘মাগো’ বলে পানিতে ছিটকে পড়ে সাত্তার। তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যায় মহিউদ্দিন। আমি তখনও কাদার মধ্যে লাইন পজিশনে। গুলি ছুঁড়ছি। ক্রলিং করে মহিউদ্দিন সামনে আসে। জানায় সাত্তারের মৃত্যুসংবাদটি। মাথায় গুলি লেগেছিল তার।

আমি মহিউদ্দিনকে পজিশন নিতে বললাম। হঠাৎ সে চিৎকার দিয়ে বলে, ‘তোর হাঁটুতে রক্ত।’ কখন যে গুলি লেগেছে টেরই পাইনি। গুলিটি আমার ডানপায়ের হাঁটু দিয়ে ঢুকে উরু দিয়ে বের হয়ে ডানহাতের বাহু ভেদ করে রেরিয়ে যায়। দেখলাম, রক্তে ভিজে গেছে গোটা পা। হাড়ের হলুদ মজ্জাগুলো বেরোচ্ছিল তখন। আমি স্থির হয়ে যাই। মনে তখন মৃত্যুভয়। অবশ হয়ে যাচ্ছিল ডানহাত। ডানপাও নাড়াতে পারছিলাম না। শরীর শুধুই ঘামছিল। ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসে চোখদুটো।

নৌকায় করে আমাকে নেওয়া হয় বিরুলিয়ায়। নবীউল্লাহ নামে এক গ্রাম্য ডাক্তার কাঁথা সেলাইয়ের সুই দিয়ে আমার পা সেলাই করে। আমি তখনও অজ্ঞান। জ্ঞান যখন ফিরল তখন ঢাকা মেডিকেলে। ওই অপারেশনে দুজন পাঞ্জাবি নিহত এবং ৫ জন সারেন্ডার করেছিল।’’

যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন

যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন

যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন

বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমার বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমির হোসেন নিজের মতামতটি তুলে ধরেন অকপটে। তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধক্ষেত্রে কেউ সারেন্ডার করলে তাকে ক্ষমা করা হয়। সে হিসেবে ছোট ছোট অপরাধে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের বঙ্গবন্ধু সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ক্ষমা করলেও তারা তো বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমা করেননি। তাই আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু ভুল করেছিলেন। এই ভুলের মাসুল তাকে দিতে হয়েছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন সত্যি। কিন্তু স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে রাজাকারদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি কোনোদিনও জাতির কাছে ক্ষমা পাবেন না। তার দলের হাত ধরেই এদেশের রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী হয়েছে রাজাকাররা। জাতির জন্য ওটা ছিল কলঙ্কজনক অধ্যায়।’’

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা বর্তমানে ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘যারা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করেছে তারা নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও অস্ত্র জমা দিয়েছেন। স্বাধীনের পরেই ওই তালিকা নিয়েই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা যেত। যারা প্রশিক্ষণ নেয়নি কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তাদের অবদানও কম ছিল না। তাই তালিকা না বাড়িয়ে তাদের আলাদা তালিকা তৈরি করা যেত।’’

তিনি মনে করেন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নয়, বরং স্বাধীনতার পরেই রাজাকারদের তালিকা করা উচিত ছিল।

এদেশের সন্তানরা যখন সারা পৃথিবীতে সফল হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ায় তখন আনন্দে মন ভরে যায় এ বীর মুক্তিযোদ্ধার। খারাপ লাগার অনুভূতি জানাতে তিনি বলেন, ‘‘ক্ষমতার জন্য যখন রাজনীতিবিদরা হানাহানিতে লিপ্ত হয়, দেশের বিরুদ্ধে যখন তারা কথা বলে, তাতে দেশেরই ক্ষতি করে– তখন খুব খারাপ লাগে।’’

কথা ওঠে তরুণ প্রজন্মের জেগে ওঠা নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘‘কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে এমনটাই আশা সবার। কিন্তু বিচারের রায় যখন অন্যদিকে যাচ্ছিল তখনই জেগে ওঠে তরুণরা। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে তারা গড়ে তুলে গণজাগরণ মঞ্চ। বিচার না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চয়ই এ তরুণরা সজাগ থাকবে।’’

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে আশা নিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘‘তোমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত কর না। ন্যায়ের পক্ষে আর অন্যায়ের বিপক্ষে থেক। তোমরা দেশের প্রতি থেক আস্থাশীল। দেশ হল মা। মায়ের মতোই তাকে ভালোবেস।’’

সংক্ষিপ্ত তথ্য

নাম : যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আমির হোসেন মোল্লা
ট্রেনিং নেন : আসামের কাছাড় জেলার লায়লাপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে। এম (মুজিব) উইং-এ তিনি ছিলেন ৬নং স্কোয়াড আলফা কোম্পানিতে
এফএফ নং : ৯১৯৯৭
যুদ্ধ করেছেন : ২ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডারের অধীনে যুদ্ধ করেন মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায়
যুদ্ধাহত : ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১। সকালে। বোটানিক্যাল গার্ডেনের শেষ অংশে জন্দী রাডার ক্যাম্প থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাদের একটি গুলি তার ডানপায়ের হাঁটু দিয়ে ঢুকে উরু দিয়ে বের হয়ে ডানহাতের বাহু ভেদ করে রেরিয়ে যায়।

ছবি: সালেক খোকন


সালেক খোকন: লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক।

Tags: একাত্তরে কাদের মোল্লার ভূমিকা,  কাদের মোল্লার ফাঁসিযুদ্ধাপরাধের বিচারযুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা

This entry was posted on সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৩ at ৩:২৭ অপরাহ্ণ and is filed under মুক্তিযুদ্ধ. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed.

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.

Source: http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/11962

Advertisements

Malala Yusafzai: Father upbeat about future


26 October 2012 Last updated at 13:04 GMT

The father of Malala Yousafzai, the Pakistani schoolgirl activist shot by the Taliban, has said his daughter is recovering well in the UK.

Ziauddin Yousafzai said his daughter would “rise again” to pursue her dreams.

He said he had cried when he saw for the first time Malala standing at the hospital in Birmingham.

He said it was “a miracle” she had survived a bullet grazing her brain.

The first time he had seen her after the shooting her “whole body was swollen”.

Mr Yousafzai said he had considered making preparations for her funeral

But when he saw her clean her own mouth with her shawl on a helicopter flight, he thought maybe her condition was not too serious.

Malala Yusafzai was first admitted to a hospital in the Swat valley, then flown by helicopter to Peshawar after gunmen shot her on her school bus in the main town of Mingora.

Turning point?

The Pakistan Taliban has claimed the attack, saying it shot her for “promoting secularism”.

Malala had campaigned for the rights of girls to have an education and had written a diary for the BBC Urdu service when the Pakistan Taleban controlled Swat in 2009.

Surgeons in Pakistan worked for days to save her life, operating on her to remove a bullet which had lodged in her neck.

She was moved to Britain because of the need for a safe environment for her recovery.

Mr Yousafzai said the Pakistani president had taken the decision to move her.

But he said his daughter had received “the right treatment at the right place at the right time”.

The person who attacked her, they wanted to kill her,” Mr Yousafzai said. “But I will simply say that she fell temporarily.

“She will rise again. She will stand again and she can stand now. But when she fell, Pakistan stood.”

He said he hoped the incident would be a turning point.

Mr Yousufzai has said his daughter will return to Pakistan once she has recovered and that she was determined to continue her schooling.

More surgery

Doctors at Queen Elizabeth hospital said she was still weak but stood every chance of making a good recovery.

They added that the girl will need a period of recuperation before undergoing further surgery.

Part of her skull will need to be reconstructed either by reinserting bone that was removed or by using a titanium plate.

Since the attack, the teenager has received thousands of goodwill messages from around the world.

http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-20093945

More on This Story

Related Stories

Source: http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-20093945

Pakistani girl, 13, praised for blog under Taliban

  • A seventh grade schoolgirl in the north-western Pakistani district of Swat has been writing a diary after Taleban militants there ordered schools to close as part of an edict banning girls’ education. The ban was lifted in February, but before it was revoked militants seeking to impose their austere interpretation of Sharia law destroyed about 150 schools within a year. This extract of her diary covers the days after the Sharia law deal between the government and the militants. The diary first appeared on BBC Urdu online.

    WEDNESDAY 4 MARCH

    Today our teacher asked us how many girls listen to FM radio and most of the girls said that they used to but not anymore. But few girls said that they still listen to it. Girls were of the view that once FM radio transmission is stopped only then peace can return to Swat.

    The Taleban say that they use FM radio to propagate teachings of the Koran but commander Khalil after a brief teaching of the Koran subtly switches over to threaten opponents. Announcements regarding fighting, activities and murders are made on FM radio.

    During our recess today we saw helicopters flying. The helicopters fly very low over our school. Girls called out to the soldiers and they waved back. Soldiers seem to be tired of waving now.

    TUESDAY 3 MARCH

    My younger brother does not like going to school. He cries while going to school and is jubilant coming back home. But today he came back home crying and he said that he was scared. He said that whenever he saw someone he got scared that he might be kidnapped.

    My brother often prays “O God bring peace to Swat and if not then bring either the US or China here”.

    There was another skirmish between the army and the Taleban and such incidents have taken place in the past few days. Today I heard the sound of mortar shells. People are again scared that the peace may not last for long. Some people are saying that the peace agreement is not permanent it is just a break in fighting.

    MONDAY 1 MARCH

    Attendance is getting better day by day and today 19 students were present out of 27. Exams are scheduled for 9 March and we try to spend more time studying.

    Today I went to Cheena Market with others and shopped a lot because one of the shopkeepers was shutting down and had a clearance sale. Most of the shops in Cheena Market have been closed down.

    Teachers in Swat

    Teachers greet each other in Mingora as a school reopens

    We sleep well because there is no shelling these days. It is said that the Taleban are still carrying out their activities in their areas. They also loot the relief goods meant for the displaced persons.My friend told me that her brother was quite amazed to see his acquaintance searching vehicles at night along with the Taleban. Her brother said that his acquaintance works as a labourer in the morning and along with the Taleban at night. Her brother asked him why he was with them if he was not a Talib. He replied that he earns in the morning and then at night while working with the Taleban.

    FRIDAY 27 FEBRUARY

    I was so glad to see my two friends in school today. During the operation they had gone to Rawalpindi. They said that there was peace in Rawalpindi and the standard of life was also good but they both were anxiously waiting for peace to return in Swat so that they could come back.

    WEDNESDAY 25 FEBRUARY

    My mother is not feeling well and father is out of town for a meeting so I prepared the breakfast and then went to school.

    Today we played a lot in class and enjoyed ourselves like we used to before.

    Nowadays helicopters don’t appear frequently nor do we discuss much about the army and Taleban. In the afternoon my mother, cousin and I and went to the market. There was a time when I used to like wearing the burqa but not any more. I am fed up with this because it is a hindrance in walking.

    There is gossip in Swat that one day a woman was wearing a traditional burqa. She fell and when a man tried to help her she refused and said “Don’t help me brother, as this will bring immense pleasure to [Taleban leader] Maulana Fazlullah”.

    When we entered the shop in the market where we used to shop the shopkeeper laughed and told us he got scared thinking that we might be suicide bombers.

    MONDAY 23 FEBRUARY

    When I got up I was very happy knowing that I will go to school today. At school some girls were wearing uniform whereas others were in casual clothes. During assembly girls looked extremely happy and were hugging each other.

    After assembly the headmistress advised us to cover ourselves properly and wear the burqa because it is a condition put by the Taleban.

    There were only 12 girls present in my class because some have migrated from Swat and some were not sent to school by their parents because of fear.

    Four of my friends have already left Swat and another told me today that they are also moving to Rawalpindi. I was upset with her and asked her not to go as there is a peace accord and that situation is getting better gradually. But she said that conditions were very uncertain.

    I am very sad. Four of my friends have already left and the last one is also leaving.

    SUNDAY 22 FEBRUARY

    Today we went to Mingora’s “cheena” market where one can only find things for women. We were very scared on our way to the market as the Taleban have imposed a ban on women going out for shopping.On entering the market we were shocked to see that there were only a few women there, where as earlier it used to be a very crowded place and women used to push each other.

    SATURDAY 21 FEBRUARY

    The situation in Swat is calming down gradually. Firing and artillery fire has also reduced. But people are still scared and they are afraid that the peace deal might be broken.

    There are rumours that some Taleban commanders don’t agree with this deal and say that they will keep fighting till their last breath. My heart beat rises when I hear such rumours. Why are they doing this? They say that they want to take revenge for Jamia Hafsa and the Red Mosque, but we are not the ones responsible for what happened there so why don’t they take revenge on people who are responsible?

    Moments ago Maulana Fazlullah (a pro-Taleban cleric) announced on his FM radio that he is lifting the ban from female education. He announced that girls can go to school till exams which are to be held on 17 March but they have to cover themselves.

    I am very happy to hear this as I never thought this would ever happen.


    Previous diary entries:

Class Dismissed


Class Dismissed
Watch video on …Malala Yousafzai
 

A 2009 documentary by Adam B. Ellick profiled Malala Yousafzai, a Pakistani girl whose school was shut down by the Taliban. Ms.  Malala Yousafzai a 14-year-old activist in Pakistan was shot by a gunman on Tuesday (10 October-2012).

No lessons learnt in forty years


The Express Tribune

No lessons learnt in forty years

Published: December 15, 2011  http://tribune.com.pk

Today is the fortieth anniversary of the day when Lt General AAK Niazi, martial law administrator and commander, Eastern Command Pakistan, unconditionally surrendered to Lt General Jagjit Singh Aurora, general officer commanding-in-chief India and Bangladesh forces in the Eastern Theatre. The bloody civil war between the people of East Pakistan and the military of West Pakistan started with Operation Searchlight on March 26, 1971, and finally came to an end after Pakistan’s pre-emptive attack on India on December 3, 1971 brought the direct intervention of the Indian military. After a 13-day direct confrontation, nearly 80,000 soldiers and 12,000 civilians were taken as prisoners of war by India. Pakistan was broken and Bangladesh was born.

During the long-drawn civil war, thousands, if not hundreds of thousands, of people were tortured, raped and killed. The argument over how many people were exactly killed will continue, but what is important to recall is that the Pakistan Army, which was supposed to defend the borders of the country, went on a rampage. That is why the Bangladeshis observe March 26, 1971, the day when Pakistan declared war on its own people, rather than December 16, as their independence day.

The remainder of Pakistan, West Pakistan, almost immediately showed exemplary signs of amnesia, refusing to regret its role in the debacle and stubbornly rejecting to change its attitude. As a sign of defiance and, dare I say, insentitivity, Pakistan appointed General Tikka Khan, who was called the “Butcher of Bengal” by Time magazine for leading Operation Searchlight, as the chief of army staff in 1972, whereas this person should have been court-martialled for killing innocent civilians.

Similarly, we immediately forgot that the East Pakistan debacle was primarily caused by the unwillingness of the powers in Pakistan to allow the East Pakistanis to remain part of Pakistan on an equal footing — let us not forget that the six points of Mujibur Rahman were within the framework of a united Pakistan and not outside it. But we refused to accept that the country would only become strong if all ethnicities and regions were allowed autonomy within the federal framework. So, we charged the Sindhis with attempting to secede when they had only passed an act which gave official status to their own language — Sindhi — in 1972. In Balochistan, we went even further and launched yet another military operation against them in 1973 under General Tikka Khan, which lasted five years. Again, we unleashed our military on our own people, simply because they were demanding a share in national governance. Treating all parts of the federation honourably and giving them their fair share, is something which keeps evading us even now.

Deeply mired in conspiracy theories and imagined theories of ideology and identity, with an aversion to questioning and freethinking and hence lacking development, Pakistan is a country which is fast choking on its own vomit. It is as if we know that we are sick and are about to vomit, but rather than letting the bad stuff out and dealing with the disease, we try to keep it in so much so that we are well on our way to choking ourself to death. Better still, a section of our society, echoing the sentiments of Jinnah himself, wants to keep ‘its conscience clean’ and does not even want to acknowledge the sickness.

Let me leave you with one real life example of how we still refuse to even accept, let alone learn, from the East Pakistan debacle. In my Pakistan Studies class at Forman Christian College, I spent a whole week on the Bangladesh issue. Teaching them just the bare facts of the whole problem, I could see how uneasy most of the students were, some shocked by what they had learnt, some regretful, but still there were some who refused to even accept that some atrocities might have been committed. At one point, we had a heated debate in the class when a person refused to believe that a Bengali Muslim woman, whose first-hand account we had just read, had been repeatedly raped and tortured. Another student directly confronted this person and said, “Will you only accept her story if she gets raped in front of you?”

Published in The Express Tribune, December 16th, 2011.

Read more: bangladesh1971
The writer is assistant professor of history at Forman Christian College and an editor at Oxford University Press

More lost now than then


By: M A Niazi | March 23, 2012 | http://www.nation.com.pk/

The dynamic leadership of Quaid-i-Azam Muhammad Ali Jinnah inspired the Muslims of the subcontinent to achieve the unthinkable and Pakistan emerged on the map of the world within a matter of seven years after the passage of the historic Pakistan Resolution on March 23, 1940, 72 years ago today. The raison d’être of this separate independent country for the Muslims was the Two-Nation Theory, an offshoot of the vision of Allama Muhammad Iqbal, the poet-philosopher. The Muslims, with a religion and culture totally different from the majority Hindu population’s, were meant to be free to fashion their lives in accordance with the teachings of Islam, out of reach of economic and socio-political suppression and exploitation. Coinciding with the passage of Pakistan Resolution was the appearance of pioneering newspaper Nawa-i-Waqt, thus also celebrating its 72nd birth anniversary today, 72 years on having become the most popular paper among Pakistani readers. With time, it has panned out into a group, with an English language daily, The Nation, Urdu weeklies, Nida-i-Millat and Family, monthly Phool for the children and a TV channel Waqt News. The group is dedicated to keeping the ideals cherished by Allama Iqbal and the Quaid alive.

Coming back to the early days of the idea of Pakistan, one could confidently say that for all the seemingly insurmountable problems that accosted it at every turn at its beginning, the people, enthused with the spirit of making miracles, were able to scale them to an extent that the stage seemed to have been set to achieve greater glories. There was hope that the vision of Allama Muhammad Iqbal, the poet-philosopher, of establishing an Islamic welfare state running on modern democratic lines would be realised. However, huge misfortunes lay in store for the newly born state. The first and most grievous misfortune that struck Pakistan was the passing away of the Founder of the Nation and that tragedy occurred in just over a year’s time of its creation. The people of Pakistan felt a great sense of loss at the Quaid’s untimely death, but Prime Minister Liaquat Ali Khan, his able and trusted aide, kept hope alive. His cruel assassination on October 16, 1951, led his week successors and civilian and military bureaucracy indulge in intrigues to grab the reins of power, ending with the military staging a coup.

The slide that began gave the first shock in the form of East Pakistan becoming Bangladesh, thanks to the unwise policies of the ruling leadership. The rest is the story of surges in hopes only to be dashed, with the civilian governments alternating with military dictatorships. The joining of the war on terror by Musharraf, caving in to every demand of the reigning superpower, and democratic governments trying their best to set ever lower standards of poor governance. The misgovernance of the rulers who have been in power for the past four years, after Musharraf’s exit, has given rise to record-breaking corruption and amassing of wealth by the powerful and the influential. Shortages of electricity and gas, unheard of defiance of the judiciary by the government, untrammelled inflationary pressures, rampant insecurity and egregious violation of our sovereignty have become the bane of Pakistan. Acts of terrorism and insurgency-like situation instigated by unidentifiable foreign actors, raises scares of another debacle like that of 1971. The giving of MFN status to India without any prospect of a solution of Kashmir on the basis of UN resolutions and securing our water rights is a clear negation of the Quaid’s vision. The situation poses a challenge to those who claim to be the descendants of Muslim League that created Pakistan and the repository of its ideals. The PML-N has to reach out to other factions of the League, PML-Q included, to form a united front rather than giving way to ego that is harmful to the national interest. In Sindh, its efforts are bearing fruit, with the likely joining of the PML-N by Mumtaz Bhutto and Liaquat Jatoi. With the vote bank of the united League, they could turn the tide and save the country from utter disaster at present staring it in its face, paving the way to achieving the dream dreamt by Allama Iqbal and the Quaid.

Source: http://www.nation.com.pk/pakistan-news-newspaper-daily-english-online/editorials/23-Mar-2012/more-lost-now-than-then

বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রস্তাব নেওয়া উচিত পাকিস্তানের- হামিদ মীর


১৯৭১ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে কেন ক্ষমা চাওয়া উচিত পাকিস্তানের? সেনা অভিযানের জন্য?

সম্প্রতি বাংলাদেশের মিরপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খেলাকে ঘিরে এ নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। স্পর্শকাতর এই বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান খান।

ইমরান খান এ কারণে জনপ্রিয় নন যে তাঁর অধিনায়কত্বে ১৯৯২ সালে পাকিস্তান বিশ্বকাপ জিতেছে। তিনি জনপ্রিয় তাঁর ক্যানসার হাসপাতালের জন্য, গ্রামীণ এলাকায় তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য, সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার ভূমিকার জন্য। মোশাররফ এ জন্য ২০০৭ সালে তাঁকে জেলে পুরেছিলেন। আশ্চর্যের যে ইমরান খান ২৩ মার্চ এ বিতর্কের সূত্রপাত করেন। বাংলাদেশের খুব কম লোকই ২৩ মার্চের গুরুত্ব জানেন। এটাও কাকতালীয় যে মিরপুর স্টেডিয়াম যাঁর নামে তাঁর নামও অধিকাংশ পাকিস্তানিদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবস। এ দিন সরকারি ছুটি। এবার সবাই বসে ছিলেন টেলিভিশন সেটের সামনে। ৭১ বছর আগে অভিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেরেবাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হক লাহোরে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সম্মেলনে উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমির দাবিতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। আর ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান নামের একটি আলাদা আবাসভূমির জন্ম হয়। শেরেবাংলা ১৯৬২ সালে মারা যান। কিন্তু ইসলামাবাদের মানুষ এখনো তাঁর নামের সঙ্গে পরিচিত। জিয়ো টিভির কার্যালয়গুলো এবং জং গোষ্ঠীর সংবাদপত্রগুলো করাচির এ কে ফজলুল হক সড়কে অবস্থিত।

২৩ মার্চ মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলছিল। জিয়ো নিউজ বারবার শেরেবাংলার সাদাকালো ছবিটি দেখাচ্ছিল। এ ছবি পাকিস্তানের অনেক শিক্ষার্থীর কাছেও পরিচিত। কারণ, তারা এ ছবি তাদের পড়ার বইয়ে দেখে। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের মধ্যে ওই ম্যাচের কয়েক মিনিট আগে জিয়ো নিউজ ও জিয়ো সুপারে প্রচারিত একটি বিশেষ সরাসরি টিভি অনুষ্ঠানে আমি ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলছিলাম। একই অনুষ্ঠানে কয়েক দিন আগে ইমরান খান আমাকে বলেছিলেন যে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তান সহজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারবে। ২৩ মার্চ পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছে। আমি এই ক্রিকেট-কিংবদন্তিকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর কী ধারণা? ইমরান খান হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘পাকিস্তানের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি তার দলে অবশ্যই তিনজন স্পিনারকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং আমরা এই ম্যাচটি সহজেই জিতব।’ আমি তাঁকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, কেন? ইমরান বললেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনে বেশ দুর্বল। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানিরা সেখানে নিজেদের মাঠ বলেই মনে করবে। কারণ, বাংলাদেশি দর্শকেরা আমাদের দলকে সমর্থন করবে।’ আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেন তারা আমাদের সমর্থন দেবে?’ ইমরান খান বললেন, বাংলাদেশিরা ক্রিকেটপ্রিয় জাতি এবং তিনি নিজেও ঢাকায় তাঁর ক্রিকেট খেলার সময় তাঁদের ভালোবাসা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেব। কয়েক দিন আগেই একই স্টেডিয়ামে তারা আমাদের ভাইদের হারিয়েছে।’

ইমরান খান এটা বারবার বলেছেন, ‘তারা আমাদের ভাইবোন, তারা আমাদের সমর্থন করবে।’ আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি মনে করেন না, ১৯৭১ সালে সেনা অভিযানের সময় সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার সময়। ইমরান খান স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে অবাক করে উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, বাংলাদেশিদের কাছে পাকিস্তানের অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ তিনি জানতেন এটা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটা পুরোনো দাবি। তিনি আরও বললেন, তিনি ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে লাহোরের অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলের হয়ে ঢাকার অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলের সঙ্গে একটি ম্যাচ খেলেছেন। ওই দলের তরুণ খেলোয়াড়েরা তাঁকে বলেছেন যে পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি বেশ আতঙ্কজনক। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ এ সম্পর্কে অবগত নয়। এটাই ছিল তাদের সঙ্গে তাঁর শেষ কথোপকথন। এর কয়েক মাস পর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান এবং সেখানে বসে তিনি যাঁরা প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি বলেন, সেই সেনা অভিযান কেবল ঘৃণা ও বেদনা সৃষ্টি করেছে। এটা ছিল একটা অপরাধ, এটা ছিল একটা গুরুতর ভুল। ইমরান বলছিলেন, ‘আমাদের অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত, অতীত ভুলত্র“টি থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং বেলুচিস্তান ও আদিবাসী এলাকায় সেনা অভিযান বন্ধ করা উচিত।’

মিরপুরে ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হওয়ার সময় আমাদের এই লাইভ শো শেষ হয়। আমরা স্টুডিও থেকে বের হয়ে পড়ি এবং উভয়েই মুঠোফোনে খুদেবার্তা ও কল পেতে শুরু করলাম। অধিকাংশ পাকিস্তানি ইমরান খানের দাবিকে সমর্থন ও সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে তাঁদের অনেকে ছিলেন বিভ্রান্ত। তাঁরা জিজ্ঞেস করেছেন, ১৯৭১ সালে আসলে কী ঘটেছিল? দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তানের অনেকে শেরেবাংলা সম্পর্কে জানে। তবে তারা জানে না, কেন এবং কীভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল? আল্লাহকে ধন্যবাদ এ জন্য যে টিভি চ্যানেলে ইমরান খানের ছোট একটি বক্তব্য পাকিস্তানি তরুণদের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু করে দিয়েছে। পাকপ্যাশন ডট নেটসহ অধিকাংশ ব্লগে পাকিস্তানি ক্রিকেট দলের সমর্থনে গঠিত সমর্থকেরা এই বিতর্ক শুরু করেছে যে কেন পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে?

অধিকাংশ পাকিস্তানি এখন অনুধাবন করছে, আমাদের অবশ্যই বাংলাদেশি ভাইবোনদের কাছে সামরিক স্বৈরশাসকদের অতীত অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের চার সামরিক স্বৈরশাসকের কেউ তাঁদের অপরাধের জন্য শাস্তি পাননি। তাঁরা ১৯৭১ সালে বাঙালিদের হত্যা করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে সিন্ধুতে, ২০০৬ সালে বেলুচিস্তানে এবং তারপর ২০০৭ সালে পাখতুনে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছেন। পাকিস্তানের গণতন্ত্রপ্রেমী কেউ এই কসাইদের অতীত অপরাধের পক্ষে অবস্থান নেবে না। তাঁরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়েরই শত্র“। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের সময় কাটিয়ে আসা পাকিস্তানের অনেক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, আমলা ও সিনিয়র সাংবাদিক ইমরান খানের দাবিকে সমর্থন করছেন। সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশিরা ১৯৭১ সালের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অতিরঞ্জিত করেছে। তাদের একজন আমাকে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতীয় বাঙালি লেখক শর্মিলা বসুর (সুভাষ চন্দ্র বসুর আত্মীয়) সর্বশেষ গবেষণা ইন্টারনেটে পড়ে দেখো। তিনি (শর্মিলা) ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও ধর্ষণের সব অভিযোগকে স্পষ্টত অস্বীকার করেছেন।’

আমি এসব লোককে অনুরোধ করেছি, এটি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিষয়। এখানে একজন ভারতীয়কে টেনে আনবেন না। কেন তিনি (শর্মিলা বসু) ওয়াশিংটনের উইড্র উইলস সেন্টার (ডড়ড়ফৎড়ি ডরষংড়হ ঈবহঃবৎ) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন? কেন তিনি আমেরিকানদের পৃষ্ঠপোষকতা উপভোগ করেন? ১৯৭১ সালে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার সংখ্যা নিয়ে আমার মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু সেনা অভিযানে ১৯৭১ সালে বহুসংখ্যক নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছে আমরা এটা অস্বীকার করতে পারি না। বেলুচিস্তান ও পশতু আদিবাসী এলাকার যাদের সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করেছি, তাদের প্রত্যেকে আমাকে বলেছে, কীভাবে তাদের প্রিয় মানুষগুলো সেনা অভিযানে নিহত হয়েছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর গোলাবর্ষণে গত বছর খাইবার এলাকার তিরাহ (ঞরৎধয) উপত্যকায় ৫০ জন নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছিল। পরের দিন আমাদের সেনাপ্রধান নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। আমরা এখনো সামরিক অভিযানের নামে গুরুতর ভুল করছি। কীভাবে আমরা ১৯৭১ সালে গুরুতর ভুলের বিষয় অস্বীকার করতে পারি?

আমি মনে করি, সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানির উচিত সরকারের কাছে চিঠি লেখা যে ২৩ মার্চ মিরপুরে যাঁরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সমর্থন দিয়ে আমাদের হৃদয়-মন জয় করেছেন, তাঁদের কাছে পাকিস্তানকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। এ ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি আমাদের দুর্বল করবে না; বরং আমাদের শক্তিশালী করবে।

৩০ মার্চ যখন আমাদের ক্রিকেট দল মোহালিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবে, তখন আমরা বাংলাদেশি সমর্থকদের অনুভব করব। এখনই সময় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য করা। ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে আমরা অনেক কিছু করতে প্রস্তুত। সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফ কাশ্মীর বিষয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবও ভুলে যেতে প্রস্তুত ছিলেন। আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের কাছে কেবল ক্ষমাসূচক কিছু শব্দ দাবি করা হয়েছে। যা এক ভাইয়ের কাছে আরেক ভাইয়ের ক্ষমা চাওয়ার মতো। তারা এখনো আমাদের ভালোবাসে। বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অবশ্যই একটি প্রস্তাব পাস করা উচিত। আজ ২৬ মার্চ যারা স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করছে, এ প্রস্তাব তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে দৃঢ় করবে। আমার বাংলাদেশি ভাইবোনদের প্রতি রইল স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা। ৩০ মার্চ ভারতে তোমাদের অভাব অনুভব করব আমরা।

ইংরেজি থেকে অনূদিত সাইফুল সামিন এবং এ এইচ এম ইয়াসিন।

হামিদ মীর: পাকিস্তানের জিয়ো নিউজের নির্বাহী সম্পাদক।

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
২৬.০৩.২০১২

Source: http://www.bangladeshnews24x7.com/?p=43161

By ashishbiswas Posted in Politics

Bangladesh Government Misled By Khaleej Times


By- Salah Uddin Shoaib Choudhury | Date- March 21, 2012

published in The Times of Assam, www.timesofassam.com

Bangladesh government has been visibly misled by a fabricated report of New Delhi based journalist Dipanjan Roy Chowdhury, who twisted a recent statement of ex-ISI (Inter Service Intelligence) chief Asad Durrani’s testimony before Pakistan’s Supreme Court, where he admitted to funding a number of Pakistani politicians and political parties, while there is no such existence of funding Bangladesh Nationalist Party (BNP), though this was openly accused by Bangladesh Prime Minister, Sheikh Hasina stating the main opposition BNP received fifty million Pakistan rupees from ISI prior to general election in 1991.

It was later learnt that Dipanjan Roy Chowdhury was summoned by some top brasses of Research and Analytical Wing (RAW) on March 2, 2012 and was escorted to New Delhi headquarters of the Indian spy agency, wherefrom he wrote the report for Khaleej Times and it was later sent to the Indian-born owners of the Dubai based newspaper with the special instruction of publishing it prominently. Subsequently, when the fabricated and twisted news appeared in Khaleej Times, some influential members of the Indian government phoned editors of two of the leading daily newspapers in Dhaka, suggesting them to give best treatment to the Khaleej Times news. It may also be mentioned here that, vernacular daily Prothom Alo, which was frantically trying to send both Sheikh Hasina (chief of Bangladesh Awami League) and Khaleda Zia (chief of Bangladesh Nationalist Party) into exile following the installation of military backed authoritarian regime in 2007, is accused of playing foul game in destabilizing democratic institutions in the country. The editor of the newspaper, who was earlier a veteran comrade of the Communist Party, is also named of being affiliated with Islamist militancy group in Bangladesh.

Most importantly, vernacular daily in Bangladesh, Prothom Alo in their news on the ISI funding issue false mentioned that the news item has been published in Pakistani newspaper The News as well as leading business daily The Business Recorder. Such twisting of information was done by Dipanjan Roy Chowdhury and the controversial editor of the Bangladeshi newspaper.

Most importantly, the same Dipanjan Roy Chowdhury in his bi-line story published in Indian newspaper the Daily Mail (March 15, 2012) once again played his wrongful and nasty news twisting game and turned the amount from Pakistan Rupees 50 million to 500 million, though in Khaleej Times he falsely quoted the ISI boss giving Pakistan Rupees 50 million to Bangladesh Nationalist Party.

Again on March 16, 2012, the same writer wrote in India Today, “Recently a UAE-based daily had alleged that ISI paid Rs.50 crore to BNP chairperson and former PM Khaleda Zia ahead of the 1991 elections in which the BNP won and formed the government.”

It may be mentioned here that, Dipanjon Roy Chowdhury in his reports in India Today and some other newspapers in India never mentioned that the root of Khaleej Times reports was none but him. Such frequent twisting of the false information by the same man in various places categorically proves that this man had some ulterior motive in his mind. Subsequently, Bangladeshi state owned news agency, Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS) simply copied the entire report of India Today, without verifying the authenticity of such report.

Following successful spread of the rumor created by Dipanjon Roy Chowdhury, he was invited by the Bangladeshi high commissioner in New Delhi and was compensated for such excellent report. Both met at a down-town pub in New Delhi secretly, where the Bangladeshi envoy went in a non-diplomatic vehicle. It is also learnt that one of the members of the Bangladeshi special family flew to India to meet Dipanjon Roy Chowdhury for expressing gratitude on the Khaleej Times report.

Meanwhile, Bangladesh foreign minister Dr. Dipu Moni, when asked about the source of the ruling party’s claim of the main opposition receiving ISI money, she openly confessed in a press conference stating “What we know is from a report run by the Khaleej Times.”

She further said, “We can provide more details after getting the transcript in our hands. This is necessary to be clear about what actually happened. We also need to know what is actually written in the transcript.”

It is further learnt that the copy of transcript already reached the Bangladesh High Commission in Islamabad on March 19, 2012 and the copy was subsequently sent to the foreign ministry. After seeing the real affidavit, the top brasses in Bangladesh Awami League have reportedly decided to kill the issue before their lies are exposed in public. Some of the top policymakers in the ruling party have expressed anger on Prothom Alo and their correspondent Dipanjon Roy Chowdhury for falsely sensationalizing the report.

It may be mentioned here that, policymakers in New Delhi are becoming increasingly concerned at fastest decline in popularity of Bangladesh Awami League and desperately trying to somehow malign the growing image of Bangladesh Nationalist Party as well as other anti government forces in the country. Twisting and fabrication of ISI boss statement is considered to be one of the flopped tricks of Indian policymakers and intelligence agencies.

While the ruling party’s enthusiasm in proving Bangladesh Nationalist Party’s receiving money from Pakistani ISI has already been bogged into Bay of Bengal following availability of the copy of affidavit of Asad Durrani, a very high-profile corruption and laundering of millions of dollars by the defense advisor of the Prime Minister (also a family member) and his business associated retired Colonel Md. Shahid Uddin Khan has already been proved with specific evidences. One of the lawmakers of the opposition raised this issue at the parliament on March 19, 2012, where she read out my investigative report on this matter, which was re-catered in Times of Assam. Though specific evidences on this crime have already been forwarded to Ministry of Finance, Bangladesh Bank, Anti Corruption Commission, National Security Intelligence and Directorate of Forces Intelligence, there is no sign of any investigation or action on this matter for unknown reason. It is rather learnt from numerous sources that the defense advisor is trying to exert his influence in burying the investigation into the matter and even using country’s intelligence agencies in threatening me and members of our media is stopping publication of such report. It may be mentioned here that, the business associate of the defense advisor, Colonel (Retired) Shahid Uddin Khan smuggled millions of dollars abroad violating the existing law of the land.

www.timesofassam.com/international/bangladesh-government-misled-by-khaleej-times/

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ ব্যক্তির ভুয়া অ্যাকাউন্ট: সরকার উৎখাতের আহ্বান!


আশিস বিশ্বাস, সংবাদকর্মী

ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, স্বরাষ্ট্র অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনসহ অনেকেরই একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া গেছে।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ফখরুদ্দীন আহমেদ, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের ভুয়া অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ধরনের ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার পেছনে স্বাধীনতা বিরোধী একটি রাজনৈতিক চক্র জড়িত। তার স্পষ্ট প্রমাণ এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তারা তুলে ধরেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রোফাইলে আপত্তিজনক বক্তব্য, বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রোফাইলে লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমানের সেনাবাহিনীকে সরকার উৎখাতে উস্কে দেওয়া ও বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য লেখা রয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমেদের প্রোফাইলে লেখা রয়েছে-‘আমি ইলেকশন করবো’ এ ধরনের বক্তব্য।

এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের অ্যাকাউন্টের নাম- সাহারা লীগ (Sahara Legue)। তার প্রোফাইল পিকচারের শিরোনাম লেখা- ‘রক্তখেকো ডাইনি/তার জন্য পাত্র চাই’।

ফেসবুকে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) নামে ‘সার্চ’ দিলে যে প্রোফাইল পাওয়া যায়, তাতে ‘ইনফো’ হিসেবে লেখা রয়েছে-‘প্রাইম মিনিস্টার অব বাংলাদেশ’, ‘স্টাডিড অ্যাট অ্যামেরিকান ইউনিভার্সিটি’, ‘ফ্রম-ঢাকা’। সম্ভবত অ্যাকাউন্টটি এ বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি খোলা হয়েছে। কারণ, তার প্রোফাইলের নিচে লেখা ‘ফেব্রুয়ারি ৫’।
প্রোফাইলে ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড এডুকেশনে’বিভাগে অ্যাম্প­য়ার্স অংশে প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবি দেওয়া আছে এবং লেখা রয়েছে ‘প্রাইম মিনিস্টার অব বাংলাদেশ’, কলেজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-‘আই.ই.পি. অ্যামেরিকা কলেজ’

তবে প্রধানমন্ত্রীর ‘বেসিক অপশন’-এ ভীষণ আপত্তিজনক শ্লোগান লেখা- ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গ..বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার অঙ্গ..’

এর নিচে ‘ইন্টারেস্ট’ হিসেবে লেখা রয়েছে- ‘ম্যান’।

এছাড়া শেখ হাসিনার ভুয়া প্রোফাইলে মোট ৩৪ জন বন্ধু রয়েছেন। এদের বেশির ভাগই বিদেশি। কারো কারো নাম ও প্রোফাইল আরবি ভাষায় লেখা। তবে এই প্রোফাইলে বন্ধু হিসেবে যুক্ত হয়েছেন, তাদের নামগুলো হচ্ছে- ‘আব্দুল আলিম’, আশরাফ রাইস’, ‘ক্রিস ডিয়াল’, ‘ক্রিসেল মোরেনো’, ‘ডিডেম রাভানসি’, ‘ডক আগা’, ‘ডোগো মুওয়াজি’, ‘ফখরুদ্দিন আহমেদ’ (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান), ‘জেনারেল মইন উ আহমেদ’, ‘হ্যাপি হোসেন’, ‘কার্লা ওয়াকার’, ‘লিন্ডা লিসা’, ‘লাভলী চানু’, ‘মারকোস মেন্ডোজা’, ‘মনিরুজ্জামান মনির’, ‘মন্তাসের সোবো,’ ‘মুহাম্মেদ তারচৌনা,’ ‘নাডা চারকাউয়ি’, ‘নাজিয়া পারভিন’, ‘নানা নোনা এমনোনা’, ‘নীলি নিলোঞ্জোনা’, ‘নোর এন ক্যাপ্পন’, ‘পিন্টু আলম’, ‘রহিম আব্দুর’, ‘রহমান হাফিজুর হাফিজ’, ‘রিফিনা আহমেদ’,‘রুনা বাপ্পি’, ‘সন্তোষ কুমার বরিক’, ‘শালা উদ্দিন শাহা’, ‘তালতলা বাজার মুন্সীগঞ্জ’, ‘জহির শাকিব’ ও ৩ জনের নাম আরবিতে লেখা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘প্রোফাইল পিকচার’ হিসেবে তার দাঁড়ানো অবস্থায় সিল্কজাতীয় শাড়ি পরা ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ছবি তোলার জন্য পোজ দেওয়ার ছবির অংশ বিশেষ ব্যবহার করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার ভুয়া এই ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ‘ওয়াল’-এ একটি মাত্র ‘পোস্ট’ দেওয়া আছে। যে অ্যাকাউন্ট থেকে এ পোস্টটি দেওয়া হয়েছে, সেটিও একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট। ‘টমসম বেগম’ নামে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্টধারী এ পোস্টটি দিয়েছেন। টমসম বেগম বলা চলে, প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধ, একুশে বই মেলার বিপক্ষে পোস্ট দিয়ে থাকেন। তার আবাসস্থল হিসেবে লেখা রয়েছে- রিয়াদ, সৌদি আরব।

প্রধানমন্ত্রীর ভুয়া অ্যাকাউন্টটিতে মোট ৬ জন ‘সাবস্ক্রাইবিং’ করেছেন। কিন্তু পাওয়া গেছে ৫ জনের নাম। এরা হচ্ছেন- টমসম বেগম (টমসম বেগমের সাবস্ক্রাইবার রয়েছে ২৮ হাজার ৯শ ৬৪ জন),  জোনাথন মোফ্ফাট (পরিচয় হিসেবে লেখা- লিগ্যাল ইন্টার্ন অ্যাট স্টেট অব রোড আইল্যান্ড, তার সাবস্ক্রাইবার ২শ ২১ জন), জেন সাবলেট গ্যাভিটো ( পরিচিতি হিসেবে লেখা- ওয়ার্কস অ্যাট ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট, সাবস্ক্রাইবার ১শ ৪৩ জন), কাদির কিসা (আমেরিকান ইউনিভার্সিটি, ৬৬ জন সাবস্ক্রাইবার) এবং আরাপ র‌্যাপ গোডি (পরিচিতি- প্রেজো অ্যাট কিবিরা রিপাবলিক, সাবস্ক্রাইবার ৩২ জন)।

প্রধানমন্ত্রীর ওই ভুয়া প্রোফাইলে মোট ৭টি ছবি ‘ট্যাগ’ করা আছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর একক ছবি ৩টি, ১টি বঙ্গবন্ধুর ছবি, ১টি গণকবরে সদ্য লাশের ছবি, সেখানে ইনসেটে শেখ হাসিনা স্বাগত জানাচ্ছেন। ছবির শিরোনাম লেখা হয়েছে-‘আমি ইন্ডিয়ার দালাল আমাকে ভোট দিন’, আরেকটি ছবি মূলত হিন্দুদের মিথ হনুমান বাঁধন শিরোনামের ছবির একটি ব্যঙ্গ কার্টুন। সেখানে সীতার মাথা কেটে তার বদলে শেখ হাসিনার মাথা, কার্তিকের মাথা কেটে সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, আরেকজনের মাথা কেটে সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মাথা ও গাছের সঙ্গে বাঁধা হনুমানের ছবি দেখা যায়। ছবিতে দেখা যায়, একটি কুঁড়ে ঘর, পাশেই নদী, গাছের সঙ্গে বাঁধা হনুমান। সে ছাড়া শেখ হাসিনা, দীপু মনি, সাহারা খাতুন হাসছেন।

এ কার্টুনের পাশে শেখ হাসিনার উক্তিতে লেখা- ‘মা দূর্গা যাওয়াতে দেশের ফসল ভালো… (শনিবার রাত ১টা ২৬ মিনিট)।

এরপরের ছবিটি মূলত জেপিইজে ফরমেটে কনভার্ট করা মানবজমিনে প্রকাশিত একটি নিবন্ধ। নিবন্ধটির শিরোনাম- ‘আসাম ট্রিবিউনের রিপোর্ট: হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার চেষ্টা ভারতের’। নিবন্ধটি প্রকাশের তারিখ লেখা রয়েছে- মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১।

এদিকে, বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) ‘প্রোফাইল পিকচার’-এ এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

তার প্রোফাইলে মোট ছবি রয়েছে ১৫৫টি। এর মধ্যে অনেক চরম আপত্তিকর এবং অশ্লীল ছবি ট্যাগ করা আছে।
তবে খালেদা জিয়ার ‘ইনফো’ অংশে জনৈক লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমানের দেশ বিরোধী এবং  সেনাবাহিনীকে সরকার উৎখাতে চরম উস্কানি দেওয়া হয়েছে।

এ বক্তব্যে ১/১১-এর পট পরিবর্তনের জন্য বিএনপির সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকেও দায়ী করা হয়েছে।

এ বক্তব্যের প্রথমেই লেখা রয়েছে-‘বাংলাদেশের ১/১১ এর প্রধান খলনায়ক ছিলেন সাইফুর ভাই। তিনি ফখরউদ্দিন সাহেবকে মাইনাস-২ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ আর্মিকে তিনি উস্কানি দিয়েছিলেন। তিনি ভারত গিয়ে অনেকবার বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দালালদের মাধ্যমে গোপন আলাপ ও ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনি বিএনপির সর্বনাশ করে গেছেন।’

বক্তব্যের ২য় অনুচ্ছেদে লেখা-‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমকে গ্রেফতার করার কারণে তার সমর্থিত গ্রুপের সদস্য জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে এই অপমান/ আক্রমণ করেছে। আমি এই অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য  বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর নতুন প্রজন্মের অফিসারদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা যারা ইঘচ অথবা জামায়াতে ইসলামী সমর্থন করেন তারা যেন প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা চালান।’

বক্তব্যের এক স্থানে লেখা হয়েছে-‘ আর্মি অফিসার যারা BNP অথবা জামায়াতে ইসলামী সমর্থন করেন আপনারা আওয়ামী ও বাকশালী সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকুন। গনতন্ত্র যারা ভেঙ্গে ফেলবে বা বানচাল করতে চায় তাদেরকে পঙ্গু করে দিতে হবে বা মেরে ফেলতে হবে।’

এর পরে লেখা হয়, ‘বাংলাদেশ কারো বাপের না। আল্লাহ সবার জন্য পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। সব মানুষদের অধিকার সমান। কাউকে চিরস্থায়ী ক্ষমতাবান হতে দিবেন না।

বাংলাদেশের সাধারন মানুষরা জানে না যে, ১৯৯৬ সালে যখন BNP ক্ষমতায় ছিল তখন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের গালে রাজাকার বলে একটা থাপ্পর মেরে ছিল এবং সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে চরম বেয়াদবী করেছিল।’

মাহবুবুর রহমানের বক্তব্যে এরপরে লেখা হয়- ‘রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আমি জেনারেল নাসিমকে সেই কারনে গ্রেফতার করেছিলাম। তৎকালীন সময় তারেক জিয়াকে নিয়ে বগুরা সেনানিবাসের কয়েকজন ব্রিগেডিয়ারদের সাথে Conflict সৃষ্টি হয়েছিল তারেককে সেনা নিরাপত্তা না দেয়ার কারনে।

তারেক জিয়ার কারনে জেনারেল নাসিম President আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে থাপ্পর মেরে অপমান করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার অনুরোধে রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস বগুরা সেনানিবাসের ব্রিগেডিয়ারর Suspend করে বাধ্যতামুলক অবসর দিয়েছিলেন।

সেনা বিদ্রোহ করে ক্ষমতায় আসার জন্য জেনারেল নাসিম বগুরা সেনানিবাসের ব্রিগেডিয়ারদের  Conflict করতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের নির্দেশ ও আদেশ অমান্য করেছিলেন।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মদদে ও চক্রান্তে জেনারেল নাসিম পরিকল্পনা ও ফন্দি করেছিল যে, সামরিক শাসন জারি করে সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করবে। কিন্তু আমি Lieutenant General Mahbubur Rahman তার পরিকল্পনা সফল হতে দেইনি।

সম্মতি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস ক্ষুব্ধ হয়ে জেনারেল নাসিমকে বলেছিলেন আপনে যদি Suspend letter এ স্বাক্ষর না করেন তাহলে আমি আপনাকে ( নাসিমকে ) Suspend করতে বাধ্য হব এই কথা বলার কারনে জেনারেল নাসিম মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের গালে স্বজোরে চড় মেরে বঙ্গবভন থেকে বের হয়ে চলে যান । তারপর রাষ্ট্রপতি ফোন করে জেনারেল নাসিমকে গ্রেফতার করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেন। তারপর জেনারেল নাসিমকে তার কার্যালয়ে গিয়ে আমি গ্রেফতার করি । আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি মাএ। জেনারেল নাসিমের সমর্থকরা আমাকে দেয়া রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদোন্নতি মেনে নিতে পারেনি। । তাই আমাকে চক্রান্তের মাধ্যমে জনসম্মুখে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করেছে । নিশ্চয় মহান আল্লাহ আমার এই অপমানের বিচার করবেন।

জেনারেল নাসিম একজন উগ্র মণমানসিকতা সম্পন্ন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীতে রাজনৈতিক কোন্দল ও বিভিন্ন রকম সমস্যা সৃষ্টি করে গেছেন। তাছাড়া আরো অনেক Senior আর্মি অফিসার আছেন যারা ১/১১ ও অন্যান্য রাজনৈতিক Conflict এর সাথে পরক্ষোভাবে জড়িত ছিলেন। বিশেষকরে জেনারেল হাসান মসহুদ চৌধুরী ও জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী হইতে সাবধান থাকবেন কারন ওরা আওয়ামী লীগ সমর্থন করেন ওদের পরামর্শ কেউ নিবেন না।

বাংলাদেশের গনতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য এই মুহুর্তে পারভেজ মোসারফের মতো অত্যন্ত সাহসি ও মেধাবী সেনা নায়কের দরকার যিনি বর্তমান পার্লামেন্ট অবৈধ ঘোষনাকরে নূতন সরকার গঠন করবেন এবং বাংলাদেশেক অপশক্তির হাত থেকে মুক্ত করবেন। বিশেষ করে যেসব সেনা কর্মকর্তারা Naughty Politics জড়িয়ে পড়েছেন নিজ দেশের বিরুদ্ধে।

খুলনার কুখ্যাত খুনি এরশাদ সিকদার মৃত্যুর আগে বলেছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভালো মানুষদের দল না। একজন খুনিও সেটা বুঝতে পেরেছিল। তার সেই উক্তি প্রমানিত হয়েছে রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে চড় মেরে এবং জনসম্মুখে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।

বাংলাদেশের মানুষ প্রকৃতভাবে গনতন্ত্র ফিরে পায় ১৫ই আগষ্টের হত্যাকান্ডের মাধ্যমে। শেখ মুজিবুর রহমান একজন ক্ষমতালোভী রাজনীতিবীদ ছিলেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ভারতের ইচ্ছায় এবং ভারতের পরিকল্পনায়। দুই-টি মুসলীম রাষ্ট্রকে আলাদা ও দূর্বল করার জন্য ভারত বাংলাদেশকে সমর্থন দেয় ও সবরকম সহযোগীতা করে।

বাংলাদেশের মানুষ কখনো Pakistan আলাদা হতে দিত না যদি Geographical ও Language এর পার্থক্য না হত।

বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধকরে দেশ স্বাধীন করেছে কাউকে জাতির পিতা বা রাজা বানানোর জন্য নহে।

একটি জাতীয় Politica ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সব মায়ের স্বামী অর্থ্যাৎ জাতির আব্বা শেখ মুজিব স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং সেই সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন সময়ের দাবী ছিল। কারো একক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি, অনেক রক্ত ও মা-বোনদের ইজ্জত হারানোর বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন প্রথমে শুরু হয় ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তারপর থেকে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য ভাবতে শুরু করে।

আগেকার যুগে শিক্ষিত ও যোগ্য মানুষদের অভাব ছিল। তখনকার সময় জ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবি মানুষদের সংখ্যা কম ছিল। তখন অশিক্ষিত মানুষদের মধ্যে রাজনীতি সম্পর্কে ধ্যান-ধারণা কম ছিল। এখন শিক্ষিত মানুষদের সংখ্যা বেড়েছে এবং ইতিহাস পড়ে মানুষ রাজনীতি চর্চা করছে। সেই কারনে সাধারন মানুষরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন এবং চালাক। এখন সাধারন মানুষরা রাজনীতিবীদদের সব রকম চালাকি ও মনের ভাষা বুঝতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যা দূর করতে হলে বাংলাদেশের পুরাতন সব ইতিহাস মুছে ফেলতে হবে। কারন পুরাতন ইতিহাস ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য অনেক বাধা এবং গনতন্ত্রের জন্য বিরাট হুমকি। তাই বাংলাদেশের পুরাতন সব ইতিহাস বদলাতে হলে নূতন করে একটি যুদ্ধ সৃষ্টি করতে হবে এবং সেই যুদ্ধটা হতে হবে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সংঙ্গে । যুদ্ধের নির্ধারিত সময় হবে ২০৭১ সাল অথবা এখন । ভারত বাংলাদেশকে অনেক খাটো করে দেখছে এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত করছে। ভারত বাংলাদেশকে তাদের অঙ্গরাজ্য বানানো জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের মতো ভারতের দালালি করেন হিন্দু ও সংখ্যালঘু মানুষদের ভোট ও সমর্থন পাবার জন্য। আওয়ামী লীগ দল ক্ষমতায় আসে হিন্দু ও সংখ্যালঘু মানুষদের ভোটের মাধ্যমে।

ভাবতে অবাক লাগে আমাদের নিজের দেশ বাংলাদেশের একজন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর সাহেবকে টিএফআই সেলে নিয়ে রিমান্ডে শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে শুধুমাএ ভারতকে খুশি করার জন্য। তাছাড়া বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে টানাহেচড়া করে অপদস্থ করা  হয়েছে এবং তারেককে পঙ্গু করে মেরে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছিল।

বাংলাদেশে অনেক হিন্দু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘু মানুষ বাস করে এবং তাদের ভোটের সংখ্যা অনেক। ওরা ইঘচ  ও ইসলামী দলগুলোকে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়না। কারন ওরা আস্তাহীনতায় ভোগে তাদের আস্তা ও ভরসা শুধু মাএ আওয়ামী লীগের উপর।

একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে যদি কেউ বাংলাদেশের বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের সব বিরোধীদলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সেটাকে স্বাগতম জানাবে এবং সামরিক সরকারকে সবরকম সহায়াতা ও সহযোগীতা করবে।

সুতরাং, যে কেউ সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ভারতের দালালদের হাত থেকে মুক্ত করুন।

অনুরোধে

বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক।’

জানা মতে, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সাইবার অপরাধ ঠেকাতে একটি দল কাজ করছে। তারপরও ফেসবুকে দেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট কীভাবে থাকে, তা সাধারণের বোধ্যগম্য নয়। এসব শীর্ষপর্যায়ের ব্যক্তিদের ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট থাকায় দেশি-বিদেশি অনেকেই তাদের বন্ধু হতে চান এবং তাদের এসব ভুয়া অ্যাকাউন্টে বন্ধুও বানানো হচ্ছে।

এতে করে দেশের যেমন সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি বিদেশিদের কাছেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
তারপর আবার বাংলাদেশ বিরোধী, সরকার উৎখাতের বক্তব্য এসব ভুয়া প্রোফাইলে থাকলেও যাদের নামে এ ধরনের ভুয়া অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাদের তা জানবার কথা। কিংবা কেউ না কেউ তাদের এ বিষয়ে অবহিত করার কথা। সবার চোখের সামনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটে চলেছে, তা আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে পড়েনি। এতটাই নির্বোধ (!) কি তারা?

আমরা আশা করবো, কেউ যেন বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য দিয়ে পার পেয়ে না যায়! তাহলে এই সাইবার ক্রাইম ঠেকানো যাবে না। এর ফল বাংলাদের ক্ষমতাসীন দলসহ সাধারণ মানুষকেই চরম মাশুল দিতে হবে। যেমনটা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু করেছিলেন। সে সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ দেশিয় দোসর রাজাকার-আল বদর, আল শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যদের বিচার করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঘাপটি মেরে থেকে ওই সব পাকিস্তানি দোসররা ১৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটাতে সাহস পেয়েছিল। ৭৫-এর পর দেশ আবার চলে যায় পাকিস্তানি ধারায়। আমরা আর পেছন ফিরতে চাই না…শোষণ মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে দেখতে চাই…

By ashishbiswas Posted in Politics