মূলধারা ও সামাজিক মিডিয়ার সমন্বয় প্রয়োজন মাহমুদ মেনন, হেড অব নিউজ জলবায়ু পরির্তন ইস্যু


মূলধারা ও সামাজিক মিডিয়ার সমন্বয় প্রয়োজন মাহমুদ মেনন, হেড অব নিউজ জলবায়ু পরির্তন ইস্যু.

Advertisements

মানি লন্ডারিংয়ে আইএফআইসি ব্যাংক!


 

 

 

 

সাইদ আরমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির শেষ নেই বেসরকারি ব্যাংক আইএফআইসি’র।  ব্যাংকের ৪টি শাখা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে বিভিন্ন সময় এসব অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসলেও এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক নানা কারণে এর সঙ্গে পেরে উঠতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইএফআইসি ব্যাংকের একাধিক সূত্র বাংলানিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বলতে গেলে, আইএফআইসি ব্যাংকের অনেক অনিয়ম বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এর কোনো ব্যবস্থা নিতে চায় না। কারণ, বেসরকারি এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান। তবে ব্যাংকটির পরিচালনা করছেন প্রভাবশালী সদস্য মোহাম্মদ লুৎফর রহমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে এর ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। আর বেরিয়ে আসা এসব অনিয়মের কথা স্বীকারও করেছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঋণ প্রভিশনে অনিয়ম, ঋণ প্রদানে অনিয়ম, মাত্রাধিক্য ঋণ প্রদান, পরিচালনা ক্রটি, ব্যাংকের নথিপত্র রক্ষায় ক্রটি, ঋণ আদায়ে ব্যর্থতা, এবং মুখ্য ঝুঁকি নিয়ে অনিয়ম এবং দূর্বলতার যেসব তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একমত হয়ে ভবিষ্যতে এহেন অনিয়ম এবং দুর্নীতি হবে না মর্মে নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, আইএফআইসি ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে পরিদর্শন দল ২৩টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন না মেনে চলছে ব্যাংকটি। এছাড়া ব্যাংক যেসব আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে, সেসব প্রতিবেদনেও রয়েছে ত্রুটি। অর্থাৎ আর্থিক বিবরণী তৈরিতে ব্যাংকটি হিসাবমান অনুসরণ করে না।

অপরদিকে, স্থায়ী সম্পদ ব্যবস্থাপনায় রয়েছে অস্বচ্ছতা। এছাড়া ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম থেকে উন্নতি করতে এসব সুপারিশ বাস্তায়ন করা জরুরি বলে সুপারিশে বলা হয়েছে।

সুপারিশমালাতে রয়েছে, সীমাতিরিক্ত ঋণ প্রদানে শাখাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা, ঋণের ক্ষেত্রে যেসব অনিয়ম ও গরমিল হয়েছে তার নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়া ব্যাংকের পরিচালক ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঋণ সঠিকভাবে শ্রেণীকরণ করতে হবে।

তথ্য অনুসারে, ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা পরিদর্শনে ১১টি সুনির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিধি ও নিয়ম লংঘনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে। এছাড়াও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ৮টি মুখ্য ঝুঁকির কোনোটি সঠিকভাবে এবং পূর্ণাঙ্গ পরিপালন করে না আইএফআইসি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক মানি লন্ডারিংকে মুখ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে। এ লক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০২ সালে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু আইএফআইসি ব্যাংক এ নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংকটির মতিঝিল শাখা, চকবাজার শাখা এবং আগ্রাবাদ শাখা এবং ফেনী শাখায় মালি লন্ডারিংয়ের তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এছাড়া বেসরকারি খাতের এ ব্যাংক ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানছে না।

এসব অনিয়মের বাইরে, ঋণ হিসাব শ্রেণীকরণ, ব্যাংকের আমানত বীমার বিষয়ে আমানতকারীদের কাছে তথ্য গোপন, ঋণ বই প্রস্তুতে অনিয়ম, কর্মকর্তাদের বদলি,  ১০ বছরের বেশি মেয়াদে অদাবিক্রিত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে না দেওয়া, আর্থিক বিবরণী দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন না করার ক্ষেত্রে অনিয়ম পেয়েছে পরিদর্শন দল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, অদৃশ্য কারণে আইএফআইসি ব্যাংক সঠিকভাবে তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে, পরিদর্শনে নানা অনিয়ম বেরিয়ে এলেও এর কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না।

ব্যাংকের এসব অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আইএফআইসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৩০ ঘণ্টা, ১৮ অক্টোবর, ২০১২