সেই ব্লগাররা প্রমাণ করুন দেশ-জাতির কল্যাণে বিদেশ পাড়ি!


সেই ব্লগাররা প্রমাণ করুন দেশ-জাতির কল্যাণে বিদেশ পাড়ি!


 

-আশিস বিশ্বাস, সংবাদকর্মী, Facebook: ashish.biswas.33, Twitter: Ashishkbiswas, Mail: ashishbiswas@rocketmail.com

পেন ইন্টারন্যাশনাল (pen-international.org) সংগঠনের নেতৃত্বে ৮টি মানবাধিকার সংগঠন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশি ব্লগারদের জরুরি ভিত্তিতে সে দেশে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার এক চিঠিতে তারা এ আহ্বান জানায়। বিষয়টি প্রশংসার দাবিবার এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে একে সমর্থনও করি।

Pen

কিন্তু একটি বিষয় নজরে এসেছে, যারা ইতোমধ্যে ব্লগার (!!) হয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের মধ্যে সত্যিকার অর্থে কতজন ব্লগার আছেন, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। তারা মুক্তবুদ্ধি চর্চায় ব্লগে কী লিখেছেন, সেটাকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। বিষয়টা এই জন্য দরকার যে, তারা আসলেই ব্লগার কিনা।

ব্লগার শুনলেই মনের মধ্যে অসীম জ্ঞানের অধিকারী একজন মানুষের ছবি ভেসে ওঠে; যারা যুক্তি দিয়ে, তথ্য দিয়ে, উদাহরণ দিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখেন। সেই সঙ্গে প্রশ্নহীন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের (অন্তত Why) উদ্রেক করতে সক্ষম হন।

why (1)

মানুষের মূল্যবোধও পরিবর্তন হয়। হয়ত তা ধীরে ধীরে। কিন্তু এ জন্য তাকে তথ্য দিতে হবে (Cognitive domain) হবে। তথ্য দিতে হবে এ কারণে যে, মানুষ জন্মগতভাবেই যুক্তিবাদী। তার মূল্যবোধকে তার নিজের যুক্তি দিয়েই তিনি যে সঠিক তা বলতে চান। এই বোধকে পরিবর্তন করতে হলে ক্রমাগতভাবে যুক্তি, উদাহরণসহ বিজ্ঞানের অগ্রগতির অনেক বিষয়ই তুলে ধরতে হয়। আর এ কাজ করেন ব্লগাররা।

যেমন ধরুন- অভিজিৎ রায়। তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে লেখার পাশাপাশি অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে জানার চেষ্টা করেছেন এবং তা ব্লগে বা বই আকারে প্রকাশ করেছেন। তিনি সার্ন-CERN (সার্ন বিগব্যাং থিওরি প্রতিষ্ঠা করতে গড’স পার্টিকেল বা হিগস বোসন-.কণা. অনুসন্ধান করে পাল্টা ইউনিভার্স প্রতিষ্ঠা করতে চায় ল্যাবে) সার্ন ল্যাব পরিদর্শন করে তা আমাদের জানিয়েছেন। আমরা তা জেনে কোয়ান্টাম পদার্থ বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পেরেছি।11228128_370472566494886_7251847272352292137_n

তেমননি- রাজীব হায়দার শোভন, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত দাশসহ অন্যান্য ব্লগাররা মানুষকে প্রশ্নমুখী করার, মানব ইতিহাসের এবং সভ্যতার শুরুর দর্শন কেন যে অলীক, কল্পিত তারও তথ্য তুলে ধরেছেন। তাদের তথ্য দিয়ে আমরা নিজেরা সমৃদ্ধ হয়েছি। সাধারণ মানুষের মূল্যবোধেও খোঁচা লেগেছে। এর সুফল হয়ত পাওয়া যাবে আরো পরে।

কিন্তু যারা ব্লগার (!!) হয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তারা কী অবদান রেখেছেন, তারা আর তা তুলে ধরছেন না। তাদের কাছ থেকে তথ্যবহুল কোনো লেখা পাচ্ছি না। তারা বিদেশে গিয়ে কী করছেন, কেমন লাগছে, কী খাচ্ছেন সে সবের ছবি দিচ্ছেন ফেসবুকে। এ দিয়ে আমরা যারা ব্লগারদের কাছ থেকে আরো অনেক কিছু জানতে চাই, তাদের কোনোই উপকার হচ্ছে না। তাদের কোনো কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে না যে, তারা অনেক জ্ঞানের অধিকারী। বরং তারা যে, অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য পত্রপত্রিকায় দুই/একটা কথা বলেছেন, তা শুধুমাত্র ভিসা পাওয়ার জন্য; এর পেছনে ব্লগার হওয়ার কোনো হাত নেই। এখন কিন্তু তা পরিস্কার!

বিদেশে চাপাতির ভয় নেই। কিন্তু কেন এখন তাদের কাছ থেকে মুক্তমনা লেখা পাওয়া যাবে না! এমন একটা সময় আসবে, বিদেশিরা বুঝতে পারবে, তথাকথিত ব্লগাররা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সে দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে, শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। তখন সত্যিকারের ব্লগারও কোথাও আশ্রয় পাবেন না। সেটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশঙ্কা হয়ে থাকবে।

ব্যতিক্রম

ব্যতিক্রম যে নেই, তা বলবো না। ব্যতিক্রম একজনের কথা বলি। তার সামাজিক সাইট নাম- ফড়িং ক্যামেলিয়া (Foring Camelia)। তিনি কিন্তু বিদেশে আশ্রয় নিয়েও তথ্য সমৃদ্ধ লেখা তৈরি করছেন এবং সামাজিক সাইটে শেয়ার করছেন। তার এ সব লেখা সাংবাদিক, গবেষক, উৎসাহী পাঠকদের জন্য যেমন রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে, তেমনি সাধারণ মানুষও অনেক কিছুই জানতে পারবেন। তার লেখার লিংক তুলে দিচ্ছি।

camelia-blog head

ব্লগ- Foring Camelia

নির্বাসিত ব্লগারের লেখা পড়তে শিরোনামে ক্লিক করুন

কে বলে নারী রাজাকার ছিল না ?
৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে কোন নারীর সম্ভ্রম/সম্মান নষ্ট হয়নি ……।
নারী কেন শয়তানের স্বরূপ ?

আমরা কিন্তু এখন তুলনা করতে পারবো, সত্যিকার অর্থেই দেশের জন্য কোন কোন ব্লগার (!!) বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন! আমাদের কাছে সবার নামই আছে এবং কে কোথায় আছেন, তার তালিকাও সংবাদমাধ্যম কর্মীদের কাছে আছে।

তাহলে আমাদের দেশের মানুষ তুলনা করার সুযোগ পাবেন, সত্যিকার অর্থেই কারা দেশ ও মানব সভ্যতার জন্য অবদান রাখছেন, আর কারা ব্যক্তিস্বার্থে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। বাংলাদেশে এখনো অনেকই আছেন, যারা চাপাতির ভয়ে দেশমাতৃকাকে ত্যাগ করেননি। দেশে বসেই তারা লিখছেন। সঙ্গতভাবেই নিরাপত্তার কারণে তাদের কারো নামই উল্লেখ করা যাবে না।

এখনো সময় আছে, যারা ব্লগার হয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তারা প্রমাণ করুন, সত্যিকার অর্থেই তারা দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে চেয়েছেন। তাদের পাণ্ডিত্য আমরা দেখতে চাই এবং বুক ফুলিয়ে বলতে চাই, তারা সত্যিকার অর্থেই একজন ব্লগার!

12141804_567189903433456_1796420225510965777_n

আমি দুখিত, এ সব কথা উচ্চারণের জন্য। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় এবং একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে, এ বিষয়ে আলোকপাত করা উচিত। আমি হয়ত বিষয়টি উসকে দিলাম। অন্যরা বাকি কাজটা করবেন।

তবে চাপাতির কোপে জাতি যে সব প্রাগ্রসর মানুষ ও ব্লগার হারিয়েছে, তারা বেঁচে থাকলে তাদের কাছ থেকে আমরা আরো অনেক কিছুই জানতে পারতাম।

শ্রদ্ধা জানাই তাদের অবদানকে মনে রেখে…!! আমরা মনে না রাখলেও ইতিহাস ও সময় তাদের স্মরণ করবে; এখন যেমন গ্যালিলিও, কোপার্নিকাসসহ অনেককেই স্মরণ করে এবং করবে… (আমাদেরও সেই সময়কার অনেক দার্শনিক রয়েছেন, যাদের নাম আর উল্লেখ করা হলো না)।

কলমের জোর অটুট থাকুক-

pen-640x480

 

Advertisements

One comment on “সেই ব্লগাররা প্রমাণ করুন দেশ-জাতির কল্যাণে বিদেশ পাড়ি!

  1. মাথা নিচু করে সমস্ত অভিযোগ মেনে নিচ্ছি । আসলেই আমরা যারা জীবন বাঁচিয়ে দেশের বাইরে এসেছি লেখালিখি করার জন্য, তাদের দায় অনেক । এই দায় আমার দেশের প্রতি , এই দায় দেশে যারা আছেন তাদের প্রতি, এই দায় তাদের প্রতি যাদের আমরা হারিয়েছি।

Comments are closed.