ধর্ম কেন ভয়ের বিষয়!


ধর্ম কেন ভয়ের বিষয়! Why religion is a phobia! ধর্ম কেন ভয়ের বিষয়!- আশিস বিশ্বাস, mail: ashishbiswas@rocketmail.com, twitter: @Ashishkbiswas Photo- internet #ধর্ম এখন একটা ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে…আপনি যদি ভারতে থাকেন, তাহলে আপনি জানেন না, কখন ‘গোমাতা রক্ষাকারী সমিতি’…

সেই ব্লগাররা প্রমাণ করুন দেশ-জাতির কল্যাণে বিদেশ পাড়ি!


সেই ব্লগাররা প্রমাণ করুন দেশ-জাতির কল্যাণে বিদেশ পাড়ি!


 

-আশিস বিশ্বাস, সংবাদকর্মী, Facebook: ashish.biswas.33, Twitter: Ashishkbiswas, Mail: ashishbiswas@rocketmail.com

পেন ইন্টারন্যাশনাল (pen-international.org) সংগঠনের নেতৃত্বে ৮টি মানবাধিকার সংগঠন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশি ব্লগারদের জরুরি ভিত্তিতে সে দেশে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার এক চিঠিতে তারা এ আহ্বান জানায়। বিষয়টি প্রশংসার দাবিবার এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে একে সমর্থনও করি।

Pen

কিন্তু একটি বিষয় নজরে এসেছে, যারা ইতোমধ্যে ব্লগার (!!) হয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের মধ্যে সত্যিকার অর্থে কতজন ব্লগার আছেন, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। তারা মুক্তবুদ্ধি চর্চায় ব্লগে কী লিখেছেন, সেটাকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। বিষয়টা এই জন্য দরকার যে, তারা আসলেই ব্লগার কিনা।

ব্লগার শুনলেই মনের মধ্যে অসীম জ্ঞানের অধিকারী একজন মানুষের ছবি ভেসে ওঠে; যারা যুক্তি দিয়ে, তথ্য দিয়ে, উদাহরণ দিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখেন। সেই সঙ্গে প্রশ্নহীন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের (অন্তত Why) উদ্রেক করতে সক্ষম হন।

why (1)

মানুষের মূল্যবোধও পরিবর্তন হয়। হয়ত তা ধীরে ধীরে। কিন্তু এ জন্য তাকে তথ্য দিতে হবে (Cognitive domain) হবে। তথ্য দিতে হবে এ কারণে যে, মানুষ জন্মগতভাবেই যুক্তিবাদী। তার মূল্যবোধকে তার নিজের যুক্তি দিয়েই তিনি যে সঠিক তা বলতে চান। এই বোধকে পরিবর্তন করতে হলে ক্রমাগতভাবে যুক্তি, উদাহরণসহ বিজ্ঞানের অগ্রগতির অনেক বিষয়ই তুলে ধরতে হয়। আর এ কাজ করেন ব্লগাররা।

যেমন ধরুন- অভিজিৎ রায়। তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে লেখার পাশাপাশি অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে জানার চেষ্টা করেছেন এবং তা ব্লগে বা বই আকারে প্রকাশ করেছেন। তিনি সার্ন-CERN (সার্ন বিগব্যাং থিওরি প্রতিষ্ঠা করতে গড’স পার্টিকেল বা হিগস বোসন-.কণা. অনুসন্ধান করে পাল্টা ইউনিভার্স প্রতিষ্ঠা করতে চায় ল্যাবে) সার্ন ল্যাব পরিদর্শন করে তা আমাদের জানিয়েছেন। আমরা তা জেনে কোয়ান্টাম পদার্থ বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পেরেছি।11228128_370472566494886_7251847272352292137_n

তেমননি- রাজীব হায়দার শোভন, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত দাশসহ অন্যান্য ব্লগাররা মানুষকে প্রশ্নমুখী করার, মানব ইতিহাসের এবং সভ্যতার শুরুর দর্শন কেন যে অলীক, কল্পিত তারও তথ্য তুলে ধরেছেন। তাদের তথ্য দিয়ে আমরা নিজেরা সমৃদ্ধ হয়েছি। সাধারণ মানুষের মূল্যবোধেও খোঁচা লেগেছে। এর সুফল হয়ত পাওয়া যাবে আরো পরে।

কিন্তু যারা ব্লগার (!!) হয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তারা কী অবদান রেখেছেন, তারা আর তা তুলে ধরছেন না। তাদের কাছ থেকে তথ্যবহুল কোনো লেখা পাচ্ছি না। তারা বিদেশে গিয়ে কী করছেন, কেমন লাগছে, কী খাচ্ছেন সে সবের ছবি দিচ্ছেন ফেসবুকে। এ দিয়ে আমরা যারা ব্লগারদের কাছ থেকে আরো অনেক কিছু জানতে চাই, তাদের কোনোই উপকার হচ্ছে না। তাদের কোনো কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে না যে, তারা অনেক জ্ঞানের অধিকারী। বরং তারা যে, অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য পত্রপত্রিকায় দুই/একটা কথা বলেছেন, তা শুধুমাত্র ভিসা পাওয়ার জন্য; এর পেছনে ব্লগার হওয়ার কোনো হাত নেই। এখন কিন্তু তা পরিস্কার!

বিদেশে চাপাতির ভয় নেই। কিন্তু কেন এখন তাদের কাছ থেকে মুক্তমনা লেখা পাওয়া যাবে না! এমন একটা সময় আসবে, বিদেশিরা বুঝতে পারবে, তথাকথিত ব্লগাররা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সে দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে, শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। তখন সত্যিকারের ব্লগারও কোথাও আশ্রয় পাবেন না। সেটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশঙ্কা হয়ে থাকবে।

ব্যতিক্রম

ব্যতিক্রম যে নেই, তা বলবো না। ব্যতিক্রম একজনের কথা বলি। তার সামাজিক সাইট নাম- ফড়িং ক্যামেলিয়া (Foring Camelia)। তিনি কিন্তু বিদেশে আশ্রয় নিয়েও তথ্য সমৃদ্ধ লেখা তৈরি করছেন এবং সামাজিক সাইটে শেয়ার করছেন। তার এ সব লেখা সাংবাদিক, গবেষক, উৎসাহী পাঠকদের জন্য যেমন রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে, তেমনি সাধারণ মানুষও অনেক কিছুই জানতে পারবেন। তার লেখার লিংক তুলে দিচ্ছি।

camelia-blog head

ব্লগ- Foring Camelia

নির্বাসিত ব্লগারের লেখা পড়তে শিরোনামে ক্লিক করুন

কে বলে নারী রাজাকার ছিল না ?
৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে কোন নারীর সম্ভ্রম/সম্মান নষ্ট হয়নি ……।
নারী কেন শয়তানের স্বরূপ ?

আমরা কিন্তু এখন তুলনা করতে পারবো, সত্যিকার অর্থেই দেশের জন্য কোন কোন ব্লগার (!!) বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন! আমাদের কাছে সবার নামই আছে এবং কে কোথায় আছেন, তার তালিকাও সংবাদমাধ্যম কর্মীদের কাছে আছে।

তাহলে আমাদের দেশের মানুষ তুলনা করার সুযোগ পাবেন, সত্যিকার অর্থেই কারা দেশ ও মানব সভ্যতার জন্য অবদান রাখছেন, আর কারা ব্যক্তিস্বার্থে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। বাংলাদেশে এখনো অনেকই আছেন, যারা চাপাতির ভয়ে দেশমাতৃকাকে ত্যাগ করেননি। দেশে বসেই তারা লিখছেন। সঙ্গতভাবেই নিরাপত্তার কারণে তাদের কারো নামই উল্লেখ করা যাবে না।

এখনো সময় আছে, যারা ব্লগার হয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তারা প্রমাণ করুন, সত্যিকার অর্থেই তারা দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে চেয়েছেন। তাদের পাণ্ডিত্য আমরা দেখতে চাই এবং বুক ফুলিয়ে বলতে চাই, তারা সত্যিকার অর্থেই একজন ব্লগার!

12141804_567189903433456_1796420225510965777_n

আমি দুখিত, এ সব কথা উচ্চারণের জন্য। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় এবং একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে, এ বিষয়ে আলোকপাত করা উচিত। আমি হয়ত বিষয়টি উসকে দিলাম। অন্যরা বাকি কাজটা করবেন।

তবে চাপাতির কোপে জাতি যে সব প্রাগ্রসর মানুষ ও ব্লগার হারিয়েছে, তারা বেঁচে থাকলে তাদের কাছ থেকে আমরা আরো অনেক কিছুই জানতে পারতাম।

শ্রদ্ধা জানাই তাদের অবদানকে মনে রেখে…!! আমরা মনে না রাখলেও ইতিহাস ও সময় তাদের স্মরণ করবে; এখন যেমন গ্যালিলিও, কোপার্নিকাসসহ অনেককেই স্মরণ করে এবং করবে… (আমাদেরও সেই সময়কার অনেক দার্শনিক রয়েছেন, যাদের নাম আর উল্লেখ করা হলো না)।

কলমের জোর অটুট থাকুক-

pen-640x480

 

A letter to our daughter


mark-zuckerberg_a-letter-to-our-daughter_cover_page

A letter to our daughter

MARK ZUCKERBERG •WEDNESDAY, 2 DECEMBER 2015

Dear Max,
Your mother and I don’t yet have the words to describe the hope you give us for the future. Your new life is full of promise, and we hope you will be happy and healthy so you can explore it fully. You’ve already given us a reason to reflect on the world we hope you live in.

Like all parents, we want you to grow up in a world better than ours today.

While headlines often focus on what’s wrong, in many ways the world is getting better. Health is improving. Poverty is shrinking. Knowledge is growing. People are connecting. Technological progress in every field means your life should be dramatically better than ours today.

We will do our part to make this happen, not only because we love you, but also because we have a moral responsibility to all children in the next generation.

We believe all lives have equal value, and that includes the many more people who will live in future generations than live today. Our society has an obligation to invest now to improve the lives of all those coming into this world, not just those already here.

But right now, we don’t always collectively direct our resources at the biggest opportunities and problems your generation will face.

Consider disease. Today we spend about 50 times more as a society treating people who are sick than we invest in research so you won’t get sick in the first place.

Medicine has only been a real science for less than 100 years, and we’ve already seen complete cures for some diseases and good progress for others. As technology accelerates, we have a real shot at preventing, curing or managing all or most of the rest in the next 100 years.

Today, most people die from five things — heart disease, cancer, stroke, neurodegenerative and infectious diseases — and we can make faster progress on these and other problems.

Once we recognize that your generation and your children’s generation may not have to suffer from disease, we collectively have a responsibility to tilt our investments a bit more towards the future to make this reality. Your mother and I want to do our part.

Curing disease will take time. Over short periods of five or ten years, it may not seem like we’re making much of a difference. But over the long term, seeds planted now will grow, and one day, you or your children will see what we can only imagine: a world without suffering from disease.

There are so many opportunities just like this. If society focuses more of its energy on these great challenges, we will leave your generation a much better world.

• • •

facebook-lady-with-maleOur hopes for your generation focus on two ideas: advancing human potential and promoting equality.

Advancing human potential is about pushing the boundaries on how great a human life can be.

Can you learn and experience 100 times more than we do today?

Can our generation cure disease so you live much longer and healthier lives?

Can we connect the world so you have access to every idea, person and opportunity?

Can we harness more clean energy so you can invent things we can’t conceive of today while protecting the environment?

Can we cultivate entrepreneurship so you can build any business and solve any challenge to grow peace and prosperity?

Promoting equality is about making sure everyone has access to these opportunities — regardless of the nation, families or circumstances they are born into.

Our society must do this not only for justice or charity, but for the greatness of human progress.

Today we are robbed of the potential so many have to offer. The only way to achieve our full potential is to channel the talents, ideas and contributions of every person in the world.

Can our generation eliminate poverty and hunger?

Can we provide everyone with basic healthcare?

Can we build inclusive and welcoming communities?

Can we nurture peaceful and understanding relationships between people of all nations?

Can we truly empower everyone — women, children, underrepresented minorities, immigrants and the unconnected?

If our generation makes the right investments, the answer to each of these questions can be yes — and hopefully within your lifetime.

• • •

mark-zuckerberg_a-letter-to-our-daughter0000
This mission — advancing human potential and promoting equality — will require a new approach for all working towards these goals.

We must make long term investments over 25, 50 or even 100 years. The greatest challenges require very long time horizons and cannot be solved by short term thinking.

We must engage directly with the people we serve. We can’t empower people if we don’t understand the needs and desires of their communities.

We must build technology to make change. Many institutions invest money in these challenges, but most progress comes from productivity gains through innovation.

We must participate in policy and advocacy to shape debates. Many institutions are unwilling to do this, but progress must be supported by movements to be sustainable.

We must back the strongest and most independent leaders in each field. Partnering with experts is more effective for the mission than trying to lead efforts ourselves.

We must take risks today to learn lessons for tomorrow. We’re early in our learning and many things we try won’t work, but we’ll listen and learn and keep improving.

• • •

mark-zuckerberg_a-letter-to-our-daughter_03

Our experience with personalized learning, internet access, and community education and health has shaped our philosophy.

Our generation grew up in classrooms where we all learned the same things at the same pace regardless of our interests or needs.

Your generation will set goals for what you want to become — like an engineer, health worker, writer or community leader. You’ll have technology that understands how you learn best and where you need to focus. You’ll advance quickly in subjects that interest you most, and get as much help as you need in your most challenging areas. You’ll explore topics that aren’t even offered in schools today. Your teachers will also have better tools and data to help you achieve your goals.

Even better, students around the world will be able to use personalized learning tools over the internet, even if they don’t live near good schools. Of course it will take more than technology to give everyone a fair start in life, but personalized learning can be one scalable way to give all children a better education and more equal opportunity.

We’re starting to build this technology now, and the results are already promising. Not only do students perform better on tests, but they gain the skills and confidence to learn anything they want. And this journey is just beginning. The technology and teaching will rapidly improve every year you’re in school.

Your mother and I have both taught students and we’ve seen what it takes to make this work. It will take working with the strongest leaders in education to help schools around the world adopt personalized learning. It will take engaging with communities, which is why we’re starting in our San Francisco Bay Area community. It will take building new technology and trying new ideas. And it will take making mistakes and learning many lessons before achieving these goals.

But once we understand the world we can create for your generation, we have a responsibility as a society to focus our investments on the future to make this reality.
Together, we can do this. And when we do, personalized learning will not only help students in good schools, it will help provide more equal opportunity to anyone with an internet connection.

• • •

Priscilla Chan
Many of the greatest opportunities for your generation will come from giving everyone access to the internet.

People often think of the internet as just for entertainment or communication. But for the majority of people in the world, the internet can be a lifeline.

It provides education if you don’t live near a good school. It provides health information on how to avoid diseases or raise healthy children if you don’t live near a doctor. It provides financial services if you don’t live near a bank. It provides access to jobs and opportunities if you don’t live in a good economy.

The internet is so important that for every 10 people who gain internet access, about one person is lifted out of poverty and about one new job is created.

Yet still more than half of the world’s population — more than 4 billion people — don’t have access to the internet.

If our generation connects them, we can lift hundreds of millions of people out of poverty. We can also help hundreds of millions of children get an education and save millions of lives by helping people avoid disease.

This is another long term effort that can be advanced by technology and partnership. It will take inventing new technology to make the internet more affordable and bring access to unconnected areas. It will take partnering with governments, non-profits and companies. It will take engaging with communities to understand what they need. Good people will have different views on the best path forward, and we will try many efforts before we succeed.

But together we can succeed and create a more equal world.

• • •

Priscilla Chan'_Note
Technology can’t solve problems by itself. Building a better world starts with building strong and healthy communities.

Children have the best opportunities when they can learn. And they learn best when they’re healthy.

Health starts early — with loving family, good nutrition and a safe, stable environment.

Children who face traumatic experiences early in life often develop less healthy minds and bodies. Studies show physical changes in brain development leading to lower cognitive ability.

Your mother is a doctor and educator, and she has seen this firsthand.

If you have an unhealthy childhood, it’s difficult to reach your full potential.

If you have to wonder whether you’ll have food or rent, or worry about abuse or crime, then it’s difficult to reach your full potential.

If you fear you’ll go to prison rather than college because of the color of your skin, or that your family will be deported because of your legal status, or that you may be a victim of violence because of your religion, sexual orientation or gender identity, then it’s difficult to reach your full potential.

We need institutions that understand these issues are all connected. That’s the philosophy of the new type of school your mother is building.

By partnering with schools, health centers, parent groups and local governments, and by ensuring all children are well fed and cared for starting young, we can start to treat these inequities as connected. Only then can we collectively start to give everyone an equal opportunity.

It will take many years to fully develop this model. But it’s another example of how advancing human potential and promoting equality are tightly linked. If we want either, we must first build inclusive and healthy communities.

• • •Mark Zuckerberg_Pricilla

For your generation to live in a better world, there is so much more our generation can do.

Today your mother and I are committing to spend our lives doing our small part to help solve these challenges. I will continue to serve as Facebook’s CEO for many, many years to come, but these issues are too important to wait until you or we are older to begin this work. By starting at a young age, we hope to see compounding benefits throughout our lives.

As you begin the next generation of the Chan Zuckerberg family, we also begin the Chan Zuckerberg Initiative to join people across the world to advance human potential and promote equality for all children in the next generation. Our initial areas of focus will be personalized learning, curing disease, connecting people and building strong communities.

We will give 99% of our Facebook shares — currently about $45 billion — during our lives to advance this mission. We know this is a small contribution compared to all the resources and talents of those already working on these issues. But we want to do what we can, working alongside many others.

We’ll share more details in the coming months once we settle into our new family rhythm and return from our maternity and paternity leaves. We understand you’ll have many questions about why and how we’re doing this.

As we become parents and enter this next chapter of our lives, we want to share our deep appreciation for everyone who makes this possible.

We can do this work only because we have a strong global community behind us. Building Facebook has created resources to improve the world for the next generation. Every member of the Facebook community is playing a part in this work.

We can make progress towards these opportunities only by standing on the shoulders of experts — our mentors, partners and many incredible people whose contributions built these fields.

And we can only focus on serving this community and this mission because we are surrounded by loving family, supportive friends and amazing colleagues. We hope you will have such deep and inspiring relationships in your life too.

Max, we love you and feel a great responsibility to leave the world a better place for you and all children. We wish you a life filled with the same love, hope and joy you give us. We can’t wait to see what you bring to this world.

Love,
Mom and Dad

Read with all comments:

A letter to our daughter

Mark Zuckerberg'_Cover

দ্রুত ডিজিটাল বির্নিমাণের পথে দেশ!


ব্লকফাঁসে ফেসবুক
দ্রুত ডিজিটাল বির্নিমাণে দেশ!

Male dominated

Digital Fun

……আশিস বিশ্বাস

ঢাকা: ফেসবুক বন্ধ করায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তথ্যপ্রযুক্তিতে কতখানি দক্ষ হয়েছেন জানিনা; তবে সাধারণ মানুষ দারুণভাবে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠেছেন। যারা আগে ভিপিএন (VPN- Virtual Proxy Network)-এর নামও শোনেননি, তারাও এখন এ সব ব্যবহার করে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ, কুশলবিনিময়সহ তথ্যের (খবর) জানান দিচ্ছেন। এতে করে তারা আরো বেশি দক্ষ হয়ে উঠবেন নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে। এরপর চেষ্টা করবেন কত পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো যায়! এর সুবিধা হচ্ছে, আমাদের দেশ আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে।

সাধারণ মানুষ নিজেরা ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠায়, তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত পণ্যের চাহিদাও বাড়বে। বিশেষত, আরো উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন স্মার্টফোন, ওয়াইফাই রাউটার (দ্রতগতির ইন্টারনেট মিনি-টাওয়ার, যা ওয়াইম্যাক্স ও ওয়াইফাই সম্পন্ন উন্নত ডিজিটাল ডিভাইস), বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে।

Wifi

এছাড়া দ্বিমুখী ব্যবহারের ডিভাইস (ওয়াকিটকি) ‘হ্যাম রেডিও’সহ নানান বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠবেন।

Mukta

ওয়াইফাই ডিভাইস ব্যবহার করে যেখানে-সেখানে বসে স্যাটেলাইট টিভি – বিবিসি, সিএনএন, ফ্রান্স২৪, সিসিটিভি, আল-জাজিরা, এনএইচকে, আরটি, এনডিটিভিসহ আরো অনেক বিদেশি টিভির নিউজ ক্যাপচার করবেন মাত্র একটি একটি অ্যাপ দিয়ে। তারপর তা সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেবেন সেই একটি অ্যাপ দিয়েই। এই সহজ অ্যাপটির নাম- OnAir World News

OnAir

কেউ কেউ হয়ত প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে সীমিত আকারে ব্যবহৃত স্যাটেলাইট থেকে সরবরাহ করা অত্যন্ত দ্রুতগতির ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ‘ইন্ট্রানেট’ ব্যবহার করবেন। দেশ আরো ডিজিটাল হবে।

Intranet

Intranet

তবে সাংবাদিকদের খবর জানতে ফেসবুকে যেতে বিকল্প পথে যেতেই হবে। কারণ, বিভিন্ন নিউজ সাইটে না গিয়ে শুধুমাত্র ফেসবুকে কিংবা টুইটারে লগইন থাকলেই তাদের কাঙ্ক্ষিত নিউজটি পেয়ে যান বলে। আর যারা তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন, তারা তো আরো এক ধাপ এগিয়েই থাকেন।

তবে সরকারি লোকজন যেখানে ছিলেন সেখানেই থাকবেন। ডিজিটাল আসলে সরকারি লোকজন করবে না। করবে সাধারণ মানুষই। কারণ, মাস শেষে তাদের বেতন আর প্রতিদিন ‘স্যার’ ‘স্যার’ সম্বোধন শুনে ঘরে ফিরতে পারলেই হলো। দেশ ডিজিটাল হলো কী হলো না, তাতে তাদের যায়-আসে না। দেশকে ডিজিটাল করবেন আসলে সাধারণ মানুষই, তাদের উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে।

ইতোমধ্যে, দেশে ফেসবুকের আদলে http://www.bijoybook.com (বিজয়বুক) নামে একটি সামাজিক সাইট গড়ে তুলেছেন বিজয় দত্ত নামে এক তরুণ। ইন্টারনেট ঘেঁটে ঘেঁটে তিনি নিজেই এখন প্রযুক্তিবিদ। গুগলের হয়ে কিছু কাজও করছেন তিনি।

bijoybook

তার দাবি, বিজয়বুকে ইতোমধ্যে ৬০ হাজার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। ফেসবুকের মতো সব সুবিধাই আছে এতে। তাহলে…!! মানুষকে কি আর ঠেকানো যায়…! মনে রাখতে হবে, অপরাধীরা পুলিশের চেয়ে আরো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তা না হলে অপরাধকর্ম চালাতে পারতো না। তাই, ব্লক বা বন্ধ করে নয়, আরো উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ দরকার…!!

facebook-lady-with-male

Facebook cover page

জয়তু প্রযুক্তি, জয়তু জনগণ…!

বাংলাদেশ সময়: ২০০০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১৫

ধর্ম তুই আদরে থাক! আমি পুড়ে যাচ্ছি…


ধর্ম তুই আদরে থাক! আমি পুড়ে যাচ্ছি…
– আশিস বিশ্বাস

ঢাকা: হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন-
‘মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা
মন্দিরও ভাঙে ধার্মিকেরা Humayun Azad
তারপরও দাবি করে তারা ধার্মিক
আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই
তারা অধার্মিক ও নাস্তিক’

অন্য এক মনীষীর কথা-

‘ঈশ্বরের জন্য আমরা মানুষকে
খুন করতে পারি
নিজের শরীর বোমা মেরে
উড়িয়ে দিতে পারি
কিন্তু ঈশ্বরের জন্য
মানুষকে ভালোবাসতে পারি না।
হায়! ঈশ্বর তুমি কই?’

দেশে যা চলছে,  তাকে এক কথায় বলা চলে, ধর্মের নামে অধর্মের কাজ। দেশে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সংখ্যালঘুর ওপর হামলা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। কারণটি রাজনৈতিক। কিন্তু হামলা সাম্প্রদায়িক। তবে কোথাও সংখ্যালঘুদের প্রতিরোধ কিংবা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটি একতরফা। সংখ্যাগুরুরা হামলে পড়ছে সংখ্যালঘু হিন্দু কিংবা আদিবাসীদের ওপর।

যারা ঘটনাটি ঘটাচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও জামায়াতের ইসলামীর উগ্র কর্মী-সমর্থকেরা। কিন্তু এ ঘটনা যাতে ঘটতে না পারে, তার জন্য সরকার আগাম কিছু করেছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং কোথাও কোথাও সংখ্যালঘু নিপীড়নের সঙ্গে সরকারি দল আওয়ামী লীগের লোকজনও জড়িত বলে ক্ষতিগ্রস্তদের সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর তার সমর্থকেরা প্রতিশোধে হামলে পড়েছেন সংখ্যালঘু হিন্দু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের  লোকজনের ওপর। হামলা হয়েছে দল বেঁধে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে। বাদ যায়নি ধর্ষণও।

-BBC-Bangla- 2014-01-10 22-53-24
সরকারি বিদ্রোহী প্রার্থীদের হামলার কারণ দুটো। প্রথমত- সংখ্যালঘুরা কেন তাকে ভোট দেয়নি। দ্বিতীয়ত- কেন তার ভোটকেন্দ্রে যায়নি ভোট দিতে। আমরা জানি, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে খুব কম ভোটারই গেছেন। সে কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরাও যাননি বলা চলে। এমন কী আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও যাননি। কারণ,  এ সংসদ হয়ত বেশি দিন স্থায়ী হবে না। এ ছাড়া ভোট দিতে গেলে না জানি পেট্রোল বোমায় পুড়ে মরতে হয়। দেশে বিরোধী দল আন্দোলনের নামে যা করছে, তা আন্দোলন নয়, একে এক কথায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে।

আন্দোলন করতে হলে দলীয় সমর্থক-কর্মীদের রাস্তায় নামতে হয় ও সাধারণ মানুষকে দাবির সংযুক্ত করে তারা যাতে রাস্তায় নেমে আসে, সে ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু আমরা দেখেছি উল্টো। দলীয় নেতাকর্মীরা পুলিশের ভয়ে রাস্তায় নামেননি। বরং টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে দুর্বৃত্তদের হাতে পেট্রোল বোমা তুলে দিয়েছেন। তাহলে মানুষ কেন রাস্তায় নামবে!

তাহলে অবস্থাটা কী দাঁড়ালো- সংখ্যালঘুদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়াও অপরাধ। আবার না যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তাদের ওপর সরকারি দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা হামলা করেছে। কেউ স্বীকার করুন আর নাই-ই করুন। এটাই ছিল বাস্তবতা।

এদিকে, আবার কারওয়ান বাজার থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকা কী করলো! তারা একটি ভোটকেন্দ্রের ছবি ছাপালো। তাতে বেশ কয়েকজন নারী ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এদের মধ্যে মাথার সিঁথিতে সিঁদুর পরা নারীও অর্থাৎ হিন্দু নারীও ছিলেন। পত্রিকাটি হিন্দু নারীদের সংখ্যা বেশি দেখাতে ফটোশপের মাধ্যমে আরো কয়েক নারীর মাথায় সিঁদুর লাগিয়ে দিলো। তারমানে তারা বোঝাতে চাইলো,  হিন্দু সম্প্রদায়েরা লোকেরা ভোটকেন্দ্রে বেশি গেছে। ফলে, যা হওয়ার তাই হলো। ধর্মাশ্রয়ী দল বিএনপি ও উগ্র সাম্প্রদায়িক দল জামায়াত, সরকারের বিরুদ্ধে কিছু করতে না পেরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালালো। তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিলো। আসবাবপত্র তছনছ করলো, নারী-শিশুরাও রেহাই পায়নি তাদের হাত থেকে। এই হচ্ছে বাস্তবতা।

তবে আশার কথা, মানবতার যেমন কান্না আছে,  আছে তার লজ্জাও। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সংখ্যালঘু মানুষের আর্তি ও শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন সংখ্যাগুরু মানুষ নিজেদের লজ্জার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন। তাই, তুলে ধরছি- আমাদের বিবেককে জাগ্রত করার জন্য।

অপু সাহা অপূর্ব
অভয়নগরে  (যশোর) হিন্দুদের ১২ বাড়িতে আগুন, ১৩০টি ভাঙচুর…
একদিন আমিও পুড়ে যাবো। এদেশ থেকে হিন্দু বিলুপ্ত হচ্ছে, হবে। তাদের বাড়ি পুড়ছে, ধনসম্পদ লুটপাট হচ্ছে, মন্দির ভাঙছে …
বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ। কারণ, এখানে সম্প্রদায় একটাই। অবিলম্বে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হোক! তারা ভোট দিলেও সমস্যা, না দিলেও সমস্যা।
কাফের -মালাউনদের স্থান বাংলার মাটিতে নয়!

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পুড়ছে হিন্দু!

ধর্ম তুই আদরে থাক! আমি পুড়ে যাচ্ছি ..আমার মা পুড়ছে ..বোনটা ধর্ষিত হওয়ার ভয়ে কাঁদছে ..অনুভূতি হারিয়ে গেছে ..
আমি অন্তত মরতে চাই মানুষের মতো …
আপাতত এই ছিলো সুসংবাদ!

[বি..দ্র. আপনার ধর্মীয় অনুভূতিতে লাগলে ‘মালাউন’ বলে জোরে একখান গালি দিবেন .. ]

Bd---news---1অদ্রিক রাজ :
আমি মানুষ,মানবতা আমার ধর্ম এবং আমি এই দেশের একজন নাগরিক,এমনটাই ভাবি সবসময়।এই দেশের জল,বায়ু,মাটিতে হেসে খেলে বড় হয়েছি,তাই এদেশকে ভালোবাসি মন থেকে। কিন্তু,প্রতিটি সাম্প্রদায়িক নগ্ন হামলা আমাকে বার বার মনে করিয়ে দেয়,আমি সংখ্যালঘুর ঘরে জন্ম নিয়েছি।আমি সংখ্যালঘু আমি মুসলমানের ঘরে জন্মগ্রহণ করিনি, আমি মুসলমান না এটাই কি আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ ?:-(

Apu Dutta
একদিন হইতোবা বাংলাদেশিরা গল্প করবে…
এককালে এই দেশে হিন্দু সম্প্রদায় বসবাস করতো। হিন্দু মেয়েদের কপালে থাকতো সিঁদুর হাতে থাকতো শাঁখা। তাদের বারো মাসে তের পার্বণ ছিল। তারা মূর্তি পূজা করতো। তাদের প্রতিটি উৎসব ছিল রঙ্গীন। তারা ছিল সংখ্যালঘু। তাদের উপর আক্রমণ করলেও প্রতিবাদ করতো না। নীরব থাকতো। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে তাদের ওপর অনেক অত্যাচার, হামলা হয়েছে। কখনো বিএনপি, কখনো আওয়ামী লীগ এই অত্যাচার করতো। আর জামাত-শিবিরতো কথায় কথায় তাদের ওপর হামলা করতো। ভেঙে দেয়া হতো উপাসনালয়, বাড়িঘর। কোনো সরকার তাদের পাশে দাঁড়াতো না। দূর্বল বলে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করতো না। আবার যদি হামলা করে, এই ভয়ে। শুধু নীরবে কাঁদতো। ছিল চাপা হাহাকার। দিন গেছে, মাস গেছে, বছর গেছে, যুগ গেছে, বাংলাদেশ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ও আস্তে আস্তে হারিয়ে গেছে…………….!!!!!

# Kps Abhik

Amr village jessore e ekhon
dhukteo lojja lagse ….. Ki jobab
dibo tader …….

Tara bolbe BAJAN
VOTE TO THIK NOUKA TE DILAM
KINTU AMAGORE SEI NOUKA TEI
GANGER JOL E VASAI DILA ,……..

KI jobab dibo tader, bolte parben #HASINA

# Emdadul Quader
হায় খোদা! কোন দেশে আছি আমরা? এ জন্যই কি দেশ স্বাধীন করা ? ছিঃ !
Dinajpur-2Back Bencher Ornob
মারো হিন্দু, ঘর পোড়াও শতাধিক ;
বোমা বানাও, ফাটাও দিগ্বিদিক ;
মরুক মানুষ, হও পৈশাচিক ;
তা না হলে, তুমি কিসের গণতান্ত্রিক ?????

Farhana Jerin

ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ।
ভূলন্ঠিত মানবতা।
পুড়ছে বাংলাদেশ।
জ্বলছে সভ্যতা।
ধিক! ধিক! ধিক!
রুখে দাঁড়াবার সময় কি, এখনো হয়নি বাঙ্গালীর??
# Tusher Tuski
… হিন্দুরা বাংলাদেশে আছে শুধু মরার জন্য, ৭১ থেকে আজ পর্যন্ত শুধু হিন্দুরা মারা যায় বিভিন্ন ইস্যুতে আর তার ফল ভোগ করে তথাকথিত রাজনীতিবিদ ও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠরা। আবার এরাই বলে ধর্মে আছে “”’ মানুষ হত্যা মহাপাপ “”” আসলে হবে মুসলমান হত্যা মহাপাপ …

# Imtiaz Bappy
দিনের কোনো এক বেলার খাবার পাশের বাড়ির হিন্দু কাকাদের বাসায় খেতাম অথবা এলাকার কোনো এক হিন্দু বন্ধুর বাসায়…বেশি রাত হয়ে যেত বলে অনেক রাতই কাটিয়েছি হিন্দু বন্ধুদের বাসায়…দূর্গা পূজা আসলেই যেন অন্য রকম অনুভূতি…পূজা শহর জুড়ে আলোকসজ্জার নিচ দিয়ে রাতভর ঘুরে বেড়াই অনুভূতিটা ঠিক ঈদ ঈদ লাগে।

পূজোর সময় মুগ ডালের খিচুড়ি খেতে গিয়ে কখনো হিন্দু গন্ধ পাইনি…!!! ঈদ এলে হিন্দু বন্ধুরা সহ কত শত প্ল্যান…এমনকি কোরবানির হাটেও কত হিন্দু বন্ধুকে নিয়ে গেছি সাথে তাঁর ঠিক নেই……টাকা না থাকলে বাসার সামনের সোনার কর্মকার সোমর কাকার কাছ থেকে কতদিন যে টিফিনের টাকা নিয়ে স্কুলে গিয়েছি তার হিসাব করাও দুষ্কর। স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধু মহলের মধ্যে ২/৪ হিন্দু বন্ধু থাকতোই। জীবনটাই কেটেছে অসাম্প্রদায়িক এক সমাজে…

কিন্তু এত কিছুর পরও যখনই সুযোগ পেয়েছে আমার দেশের হিন্দু ভাই বোনদের উপর পাকিস্তানের ফেলে যাওয়া কীট জামাত-শিবির এবং তাদের দোসররা ভয়াবহ তান্ডব চালিয়েছে…!!!! কিছুই করতে পারিনি আগেও, কিছুই করতে পারছিনা এখনো…!!!! শুধু অথর্ব নির্লজ্জ মুসলিম হিসেবে নিজে নিজে পাগলের প্রলাপ বকে যাচ্ছি রাস্তা ঘাটে বা ফেসবুকে…
আমি তোমাদের কাছে লজ্জিত কারণ আমি মুসলমান…!
Hindu-----00###
যত দিন কোনো মানুষের মধ্যে ধর্ম
থাকবে, তত দিন সে প্রকৃত মানুষ
হতে পারবে না। ধর্ম হচ্ছে অশিক্ষিত
মানুষের সংস্কৃতি।

লেখক সালাম আজাদ

Firoz Ahmed
সর্বশেষ নির্বাচন পরবর্তী সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে দৃঢ়ভাবে দুটি দিক তুলে ধরা দরকার। প্রথমত, জামাত-বিএনপি জোট হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো চালিয়ে চেষ্টা করছে মানুষের মাঝে সাম্প্রদায়িক অনুভূতিগুলোকে আরও গভীরতর, আরও পাকাপোক্ত করে রাজনীতির পুঁজি বানাতে। কিন্তু অনেকগুলো ঘটনাতেই সরকারি দল আওয়ামী লীগও প্রত্যক্ষভাবে এই সাম্প্রদায়িক হামলায় অংশ নিয়েছে, মদদ দিয়েছে। এটা থেকে এইটাই বোঝা যায় যে, বিদ্যদান রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কাঠামোতে সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করাটা লুটেরা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য খুবই কার্যকর ব্যবসাপুঁজি, তারা সেটা প্রয়োজন ও সুযোগ মতো ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না।

যেমন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের ঘটনায় সাম্প্রদায়িক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। বলা যায় গোটা হিন্দু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে জিম্মি করার জন্য, যুদ্ধাপরাধীর বিচারকে বানচাল করতে নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা। উল্টোদিকে, রামপালে ভারতীয় পুঁজির সহায়াতায় সুন্দরবনধ্বংসী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে যাদের জমি অধিগ্রহণ করছে আওয়ামী লীগ, সেই বসতভিটা-আবাদী জমিহারারা প্রায় সর্বাংশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। প্রকল্পের স্থান নির্বাচনে এই সাম্প্রদায়িক হিসাব-নিকাশ খুব গূরুত্বপূর্ণ এবং কেবল ‘নোমো’রাই উচ্ছেদ হবে। কাজেই মুসলমানদের আপত্তি করার কিছু নাই, এমন প্রচার স্থানীয লীগ নেতারা অকাতরেই চালাচ্ছে।

সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া কিংবা প্রকল্পের নামে উচ্ছেদ করার মতো বড় বড় দৃশ্যমান ঘটনাই কেবল নয়, ভয় দেখিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করে তাদের জমিজমা-ব্যবসা দখল করার কাজেও বিএনপি-জামাত-আওয়ামী লীগ কোনো দলই পিছিয়ে নেই। এটা হলো নিত্যদিনের সাম্প্রদায়িকতা। এরই সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ হলো তাদের ওপর প্রাত্যহিক সাংস্কৃতিক পীড়ন।

জামাত বিএনপির হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার উদ্যোগ যেমন আমাদের সম্মিলিতভাবে নিতে হবে, তেমনি ভুলে গেলে চলবে না, এই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় দায়িত্ব কোনোভাবেই সরকার-নির্বাচন কমিশন-প্রশাসন এড়াতে পারে না। সাঈদীর রায়ের পর থেকে যে সব এলাকায় গোলযোগ পাকানো হয়েছে, সেখানেই এইবারের হামলাও ঘটেছে। প্রধান জাতীয় দৈনিকগুলোতে সংবাদ এসেছে আক্রান্তরা হামলার আগেই সরকারি দল ও প্রশাসনকে খবর জানিয়েছিল।

তাহলে কেন প্রতিরোধ করা দূরের কথা, কোনো একটি ঘটনাতেও ঠেকানোর ন্যূনতম চেষ্টাও দেখা যায়নি। কেন? কোনো হামলাই চোরাগোপ্তা হামলা ছিল না। প্রতিটিই ছিল সংগঠিত হামলা, চালানো হয়েছিল নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বসতির ওপর। ফলে, হামলাকারীদের ঠেকানো কিংবা বসতি রক্ষা কোনোটিই অসম্ভব ছিল না।

বাংলাদেশের লুটেরা রাজনীতির দুটো দিক এ থেকে স্পষ্ট, এই ডাকাতরা কেউ জনসমর্থন আদায় করে ভিন্ন সম্প্রদায়ের ঘড়বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে; কেউ সেই পোড়া ঘড়বাড়ি দেখিয়ে নিজের দলে ভোট টানায়। ফলে, সাম্প্রদায়িকতা বন্ধে বাস্তব আগ্রহ দুই জোটের কারোরই নেই।

বন্ধু জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার ভাষায়: “জামাত-শিবির-বিএনপি এলে দেশে অরাজকতা হবে, তাই আগামী পনের বছর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে– তবে আমরাও বুঝতে চাই, সেটি তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়েই করতে চান কিনা!”

Chondrahoto Moon
প্রথম আলো! আমার বন্ধুদের সিঁদুর নিয়ে নোংরা খেলা বন্ধ করো! এ চিহ্ন সংখ্যালঘুতার না। এ শেকড়। এ সংস্কৃতি। এ বিশ্বাস। এ আস্থা। এ নিরাপত্তা। এ পরিচয়! আমি বহন করি আমার বন্ধুদের সাথে চিরকালের বাঙালি সংস্কৃতি। সিঁদুর। ডোন্ট টাচ মাই ফ্রেন্ড!
ddd
###
সিঁদুরের সব লাল মুছে দেয়ার নাম বাংলাদেশ
রবীন আহসান

সিঁদুরের সব লাল মুছে দেয়ার নাম
ভোট-গণতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতা ???

মন্দির থেকে তোমার ঘর
তোমার মাটি তোমার সবুজ
তোমার শাঁখার চুড়ি ভাঙার নাম
বাংলাদেশ!!!!

এই কনকনে শীতে কি আগুন
তোমাদের বাড়িতে!!!
এর নাম গণতন্ত্র!!! এর নাম ভোট !!!

সিঁথিতে সিঁদুর থাকায় ১৯৭১
তোমাকে পালাতে হয়েছে
মাইলের পর মাইল!! ধর্ষণ খুন
মালাউন বলে সব জায়েজ এখানে!!!

এই বাংলাদেশ তোমার না
তোমার বাবার না
তোমার দাদার না
হাজার বছর পরও
এই মাটি এই সবুজ
এই নদী এই মাটিBuddha-01
এসব তোমার না মা!!!

তুমি সিঁদুর ধরে রাখতে
তোমার ১৮ বছরের কন্যাকে বাঁচাতে
একদিন রাতে সীমান্ত পাড়ি দেবে
শিকড়ের সব ছেড়ে উদ্বাস্তু হবে

তোমার এই রক্তপাত দেখবে না কেউ
সিঁদুরের লালের চেয়ে লাল এই রক্তপাত
ভোট আর গণতন্ত্রের এই নীরব রক্তপাতের
নাম বাংলাদেশ।
আমি লজ্জিত

এই কনকনে শীতে তোমার বাড়িতে আগুন!!
আগুন থেকে বাঁচতে তুমি তোমরা
পালাচ্ছ মাইলের পর মাইল

আমি লেপমুড়ি দিয়ে ঘুমাই!!! এ আমার দেশ!!!
সিঁদুরের লালরঙা মা

এদেশ তোমার না!!! তুমি উদ্বাস্তু !!!
এই ধর্মনিরপেক্ষ ভোট আর গণতন্ত্রের শ্রাদ্ধ করা ছাড়া
আমার আর কিছুই করার নাই মা…

### সিডাটিভ হিপনোটিক্স
বিধর্মী মারলে অনেক সোয়াব। বেহেশত নিশ্চিত। তাদের ঘর বাড়ি ভাঙার জোশে থাকা জিহাদি আফিম খাওয়া নির্বোধ দের জন্য। যদি সত্যিই ধর্মের পথে কার্য সম্পাদন করতে যাস, তবে তোর জন্য অবশ্য পাঠ্য। কারন তুমি পড় নাই, পড়লে এই নিধনে যাইতা না। তুমি নিজেই ভুলে গেছো কুরআনের প্রথম শব্দ, ইকরা….. ‘পড়’… জ্ঞান অর্জন কর।

সাবধান! যদি কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিম নাগরিকের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে তার অধিকার খর্ব করে, কষ্ট দেয় এবং তার কোনো বস্তু জোরপূর্বক নিয়ে যায়, তাহলে কিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ উত্থাপন করব।
[আবূ দাঊদ : ৩০৫২]

যে মুসলিম কর্তৃক নিরাপত্তা প্রাপ্ত কোনো অমুসলিমকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ তার ঘ্রাণ পাওয়া যায় চল্লিশ বছরের পথের দূরত্ব থেকে।
[বুখারী : ৩১৬৬]

আল্লাহ নিষেধ করেন না ওই লোকদের সঙ্গে সদাচার ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে যারা তোমাদের সঙ্গে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদের আবাসভূমি হতে তোমাদের বের করে দেয় নি। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন।
[সূরা আল-মুমতাহিনা : ৮]

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন,- “মনে রেখো যদি কোন মুসলমান কোন অমুসলিম নাগরিকের উপর নিপীড়ন চালায়, তাদের অধিকার খর্ব করে, তার কোন বস্তু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়, তাহলে কেয়ামতের দিন আমি আল্লাহর আদালতে তার বিরূদ্ধে অমুসলিম নাগরিকদের পক্ষ অবলম্বন করব।” (আবু দাউদ)।

এমনকি গালিগালাজ এর ব্যাপারেও বলা আছে স্পষ্ট। আপনি একজন হিন্দুকে মালাউন বলতে পারেন না। মালাউন অর্থ ‘অভিশপ্ত’।

Ramu-6

#অগ্নিমহড়া
মুসলমানেরা জন্মগতভাবেই ইসলাম ধর্ম নিয়ে গর্বিত। ইসলামই একমাত্র সত্য ও শান্তির ধর্ম এই মন্ত্র তারা শৈশব থেকেই পেয়ে থাকেন এবং সারাজীবন কিছু বুঝে না বুঝেই এই মন্ত্রখানি বংশপরম্পরায় নতুন প্রজন্মকে দিয়ে যান।

আশ্চর্যের বিষয় তারা পৃথিবীর অন্য মানুষদের আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার ভালো দিকগুলোকে দেখেও দেখেন না। তারা শিক্ষা নেন অশিক্ষিত হুজুরদের কাছ থেকে এবং ছোটবেলায় এই হুজুরীয় শিক্ষার বীজ এমনভাবে গেঁড়ে বসে যে, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করলেও নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা ভালো-মন্দের ব্যবধান ধরতে পারার মতো বিবেচনাবোধ আর জাগ্রত হয় না। ভিণধর্মী বা নাস্তিকেরা যাই বলুক আর যাই করুক সব কিছুকেই না বুঝে নেগেটিভলি নিতে থাকেন।

এবার প্রশ্ন হলো, একজন মুসলমানের আদৌ গর্ব করবার মতো কি আছে, অন্ধবিশ্বাস ছাড়া? একজন নাস্তিক কিংবা খ্রিষ্টান কিংবা বৌদ্ধ ধর্মালম্বীর কাছে ভিনধর্মী/ভিনদেশি একজন মানুষ যতটা নিরাপদ, একজন মুসলমানের কাছে আদৌ কি অন্যেরা ততটা নিরাপদ? একজন ভিনধর্মী/নাস্তিকের কাছ থেকে পৃথিবী যতটা জ্ঞান-বিজ্ঞানের সুফল কিংবা মানবিকতা পেয়েছে, একজন মুসলমানের কাছ থেকে কি পৃথিবী ততটা পেয়েছে ?

আমি জানি, মুমিনেরা এখন কোরানের দুচারটে আয়াত লিখেই নিজেদের শ্রেষ্ঠ দাবি করবেন। কেননা, তাদের কাছে আদিম যুগের এই দু’একটি আয়াত ছাড়া উপস্থাপন করবার মতো আর কিছুই নেই।

Nurul Pavel

বাংলাদেশ রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে আছে ব্রিটিশ-পাকিস্তানের সকল অগণতান্ত্রিক নিপীড়নমূলক আইনি কাঠামোর ওপর। ফলে জন্মের পরে বাংলাদেশের মানুষ এক মুহুর্তের জন্যও গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি। অগণতান্ত্রিক পথে ১৯৭২ সালে জাতি বিদ্বেষী ও নারী বিদ্বেষী সংবিধান প্রণয়নের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ-পাকিস্তানের সকল অগণতান্ত্রিক নিপীড়নমূলক আইনি কাঠামোর অনুমোদন দেয়া হয়।

ফলে, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রগতির পথে না গিয়ে গত ৪২ বছর অগ্রসর হয়েছে প্রতিক্রিয়াশীল পথে। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। আজকের সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপণ করা হয়ে ছিল স্বাধীনতার অল্পকালের মধ্যেই। জিয়া-এরশাদের পরিচর্যায় তা আজ মহীরূহে পরিণত হয়েছে। সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতেও সেই সাম্প্রদায়িক বটবৃক্ষের শেকড়ে জল ঢেলে তাকে আরও সতেজ করা হয়েছে।

ফলে, বহু বিলম্বে শুরু হলেও বর্তমানে চলমান যুদ্ধ অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বানচাল ও বিতর্কিত করার মরিয়া চেষ্টা ১৮ দলীয় বিএনপি ও জামাত জোটের। চলমান সাম্প্রদায়িক হানাহানির সকল প্রণোদনা নিহিত আছে বিদ্যমান রাষ্ট্রের সারা দেহে।

অতএব, রাষ্ট্রের গলায় সাম্প্রদায়িক মালা ঝুলিয়ে রেখে অসাম্প্রদায়িক সামাজিক পরিবেশ কামনা অর্থহীন।

#এম জে ফেরদৌস

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, খুন-ধর্ষণ এবং তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজের ঘটনাটিকে এখনও কেবলমাত্র ‘সাম্প্রদায়িকতা’র ফেক টার্ম দিয়ে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আদতে এই হামলা-নির্যাতন পরিপূর্ণ রূপে রাজনৈতিক হামলা। ক্ষমতার কামড়াকামড়ির রাজনৈতিক গেম। একে কেবলমাত্র ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’ আখ্যা দিয়ে যারা ব্যাখ্যা করতে চান তারা এই রাজনৈতিক ক্ষমতার ধারাবাহিতাকে জায়মান রাখতে চান।

প্রত্যেকটি নির্বাচনের পূর্বাপর এইসব হামলা হয়ে থাকে।Religion personal the state is for all

বিগত ৪ দশক ধরে স্বাধীন বঙ্গদেশে এই হয়ে আসছে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের মতো। প্রতিবারই হিন্দু সম্প্রদায়ই আক্রান্ত হয়। যারাই নির্বাচনে হারুক জিতুক হিন্দুর বাড়িই লুট হয়। এর একটি কারণ প্রতিপক্ষ দুর্বল। সামাজিকভাবে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে কাজটি সহজ হয় বলে। ভিকটিমের একটি সুনির্দিষ্ট চেহারা পাওয়া গেলেও হামলাকারীর চেহারা ভিন্ন, মিশেল। ক্ষমতাচ্যুত, সদ্য ক্ষমতাসীন, আ.লীগ-জামাত-বিএনপি অথবা এদের ঐক্য সব মিলিয়েই হামলাকারী।

চট্টগ্রামের রাউজানসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিভিন্ন দলের ছায়ায় ঢাকা একদল দুর্বৃত্তই আছে যারা নির্বাচন মওসুমের অপেক্ষায় থাকেন লুটতরাজ, খুন ধর্ষণ করবে বলে। তবে এই খুনি-লুটতরাজকারী তরফটা চাক্ষুস হামলাকারী হলেও পর্দার আড়ালের নায়ক কিন্তু ভিন্ন কেউ। হামলাকারীরা ব্যক্তিগত কায়েমী স্বার্থেই হামলা পরিচালনা করে থাকে।

কিন্তু হামলার নীল নকশাকারীদের স্বার্থ এত ছোট তরফের নয়। এখন অবদি একটি ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’রও কোনো তদন্ত হয়নি। এর কোনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চ্যাম্পিয়ন দলটি যারা অন্যের ঘাড়েই বারবার এসব হামলার দায় চাপান তারাও কোনো একটি ঘটনার বিচার করে নাই কেন? এবার নির্বাচন পরবর্তী এই সহিংসতা কার বেশি প্রয়োজন ছিলো? সাম্প্রদায়িক ইস্যু উসকে দিয়ে বাংলাদেশের আশু রাজনীতি কোনদিকে মোড় নিচ্ছে? দেশে মৌলবাদ জঙ্গিবাদের বিষবৃক্ষ বেড়ে চললে মার্কিন-ভারতের কী কী মুনাফা হয় তার হদিস না নিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলা বলে চালিয়ে দিলে ক্ষমতায় পাকাপোক্ত হতে সুবিধা হয় কি?

Random Act of Kindness


ayshfi

Let’s all practice Random Act of Kindness as of this year, as of today. It’s a great way to help heal humanity. We should really start doing it ourselves as part of our daily life and not rely on others anymore to make the world a better place.

Random acts of kindness are a means by which we make a deliberate attempt to brighten or help another person or stranger’s day by doing something thoughtful, caring and concerned for them… Those selfless Random acts of kindness are a wonderful way to reach across time and space to touch the life of another being. The power behind such act is extremely impactful and contagious.

It’s something you could do for a complete stranger, but you could also extend it to your family, friends, lover, colleague, community. Integrating it during your stressful daily life is the big ideal, but again you…

View original post 794 more words

বাতাসে লাশের গন্ধ – রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ


কবিতার খাতা

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা – একি হবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?

জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।

বাতাশে লাশের গন্ধ
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দুলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ –
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়
এ চোখে ঘুম আসেনা। সারারাত আমার ঘুম আসেনা-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,
নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ
মুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস্য শরীর
ভেসে ওঠে…

View original post 55 more words

যুদ্ধাহতের ভাষ্য-৫ ‘‘কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী আমি’’


সালেক খোকন
যুদ্ধাহতের ভাষ্য-৫ ‘‘কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী আমি’’
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৩

Bdnews-1 দিনটি ছিল ২৩ মার্চ ১৯৭১। মধ্যরাত। কালসী আহুরা গ্রামে আগুন দেয় বিহারিরা। আগুনে পুড়ে ছাই হয় এক মাস্টারের বাড়ি। শুরু হয় লুটপাট। পরের দিনই দুয়ারীপাড়ায় আগুন দেয় তারা। প্রাণভয়ে আমরা চলে যাই তুরাগ নদীর ওপারে। আশ্রয় নিই বিরুলিয়া গ্রামে।

ঢাকায় আর্মি নামে ২৫ মার্চ রাতে। লোকমুখে সে খবর ছড়িয়ে পড়ে। সবার মধ্যে তখন আতঙ্ক। অজানা ভয়। আর্মি আসার শঙ্কা নিয়েই কাটতে থাকে আমাদের দিনগুলো…

২৩ এপ্রিল সকাল। ঘরে কোনো খাবার নেই। বাবা বললেন, ‘চল, লাল ধান কেটে আনি’। গাঙের পাড়ে ছিল আমাদের জমি। বিকেল পর্যন্ত ধান কেটে আমরা তা মাঠেই স্তূপ করে রাখি। ধান নিতে নৌকা নিয়ে আসবে ছোটভাই আমজাদ মোল্লা। আমরা তার অপেক্ষায় থাকি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। তবুও আমজাদের দেখা নেই।

পাশেই ছিল আলব্দী গ্রাম। আমার বাবা ও মায়ের নানাবাড়ি। গ্রামের প্রায় সকলেই নিকটাত্মীয়। আমরা রাতটা ওইগ্রামেই কাটানোর সিদ্ধান্ত নিই। উঠি আমার খালু রোস্তম বেপারির বাড়ি।

আলব্দী গ্রাম তখন নারী ও শিশুশূন্য। বাড়িগুলোর পাহারায় পুরুষরা। সময়টা ধান কাটার। তাই বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা কৃষাণরাও আশ্রয় নেয় গ্রামে।

২৪ এপ্রিল ১৯৭১। ভোর তখনও হয়নি। আলব্দী গ্রামের পশ্চিমে তুরাগ নদীর পাড়ে পাকিস্তানি সেনাদের হেলিকপ্টার নামে। দূর থেকে আমরা তা স্পষ্ট দেখি। নেমেই তারা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আগুন ধরিয়ে দেয় বাড়িগুলোতে।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ্ব আমির হোসেন মোল্লা নিজে দেখেছেন কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞ

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ্ব আমির হোসেন মোল্লা নিজে দেখেছেন কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞ

গ্রামে ঢোকার একমাত্র পথটি ছিল কাদের মোল্লা ও বিহারি আক্তার গুণ্ডা, নেওয়াজ ও ডোমাদের দখলে। তারাও দলবল নিয়ে আলব্দী গ্রামে ঢোকে সশস্ত্র অবস্থায়। পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে অংশ নেয় হত্যাযজ্ঞে। গ্রামের নিরীহ, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে নির্বিচারে। পাশাপাশি চলে বাড়ি বাড়ি লুটতরাজ।

খালুকে পালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলেন বাবা। কিন্তু তিনি যেতে রাজি হন না। বাবা তখন আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। উত্তরদিকে ক্ষেতের পাশে ছিল একটি ছোট্ট খাল। খালের কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে থেকে আমরা তাদের হত্যাযজ্ঞ দেখি।

সকাল তখন আনুমানিক ৯টা। কুয়াশা পুরোপুরি কেটে গেছে। খালের ৫০ গজ দূরে ধরে আনা হয় ৫০-৬০ জনকে। তাদের লাইন ধরে দাঁড় করায় কাদের মোল্লার লোকেরা। হঠাৎ গুলির শব্দ। একে একে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে লাইনের সবাই। পড়েই ছটফট করতে থাকেন। মা গো, বাবা গো– আর্তচিৎকারে ভারি হয়ে উঠে আলব্দী গ্রামের বাতাস।

লাশগুলো পরে ফেলে দেওয়া হয় গ্রামেরই তিনটি কূপে। কিছু লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় তুরাগে। আমার খালুর লাশ পড়েছিল বারান্দাতে। বাড়িটি পুড়িয়ে দেয় পাকিস্তানি সেনা ও কাদের মোল্লার লোকেরা। আগুনে ঝলসে গিয়েছিল খালুর শরীরের অর্ধেকটা।

কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞ দেখেছি আমি। ওইদিন তারা হত্যা করে ৩৪৪ জনকে। ৬৪ জন গ্রামের স্থানীয় লোক। বাকিরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা কৃষাণ। স্থানীয়দের মধ্যে ২১ জনই ছিলেন আমার নিকটাত্মীয়। তারা হলেন– রুস্তম আলী, সলিমউল্লাহ, আ. আউয়াল মোল্লা, সুলেমান মোল্লা, করিম মোল্লা, জয়নাল মোল্লা, কাশেম মোল্লা, বদরুদ্দিন, জোরা মোল্লা, বিশু মোল্লা, অজল হক, ফজল হক, রহমান বেপারী, নবী মোল্লা, আলামত মিয়া, ধনা মৌলভী, ফুলচান, নওয়াব মিয়া, ইয়াছিন বানু, লালু চান ও সুনু মিয়া।

কাদের মোল্লাকে কীভাবে চিনলেন?

‘‘মুক্তিযুদ্ধের আগেই আক্তার গুণ্ডা, ডোমা, নেওয়াজ ও কাদের মোল্লাকে চিনতাম। মিরপুরে বিহারি রিফিউজিদের সংখ্যা ছিল বেশি। মাত্র পঞ্চাশটির মতো পরিবার ছিল বাঙালি। ওরা নির্ভরশীল ছিল সরকারি রিলিফের ওপর। বাঙালিদের গাছ থেকে ওরা আম-কাঁঠাল চুরি করে নিত। এ নিয়ে বহুবার তাদের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব হয়েছে। কখনও-কখনও তা রূপ নিয়েছে হাতাহাতিতে।

এছাড়া সত্তরের নির্বাচনে আমরা ছিলাম বঙ্গবন্ধুর পক্ষে। জামায়াতে ইসলামের দাড়িপাল্লার পক্ষে ছিল ওরা। মিরপুরে বিহারিদের নেতৃত্ব দিত আক্তার গুণ্ডা। তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা ও রাজাকার বাহিনীর অন্যতম সংগঠক কাদের মোল্লা। স্থানীয় মেম্বার লতিফও ছিল তাদের পক্ষে সক্রিয়। মিরপুর ১০ নম্বরে তাদের একটি কার্যালয় ছিল। ওখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, মীর আবুল কাশেম, সরদার আবদুস সালাম প্রমুখের।’’

১৯৭১ এ কাদের মোল্লার হত্যাযজ্ঞের কথা এভাবেই বলছিলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আমির হোসেন মোল্লা। মিরপুরে আলব্দী গ্রামের গণহত্যায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৮ সালে ২৩ জানুয়ারিতে তিনিই প্রথম জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাসহ দশজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ওই পিটিশনটি পল্লবী থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয় ২৫ জানুয়ারি তারিখে। মামলার নং ৬০।

হাঁটুর উপরের ক্ষত দেখাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্রা

হাঁটুর উপরের ক্ষত দেখাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্রা

মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লার বাড়ি ঢাকা মহানগরের পল্লবী থানার দুয়ারীপাড়ায়। বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। তার বাবার নাম সুরজত আলী মোল্লা ও মা রাহিমা খাতুন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। শিক্ষাজীবনের শুরু মিরপুরের সিন্তাত হাই স্কুলে। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের গুলির আঘাতে তার ডানপায়ের হাঁটুর ওপরে ও ডানহাতে মারাত্মক জখম হয়।

আলাপচারিতায় কথা উঠে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘‘ওইদিন আমরা প্রায় তিনশ জন গিয়েছিলাম রেসকোর্স ময়দানে। সবার হাতে হাতে ছিল বাঁশের লাঠি। মিরপুরে আমাদের নেতৃত্ব দেন মান্নান খান ও আক্কাস মেম্বার। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দিব। তবু এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’ শুনেই লাঠি উঁচিয়ে আমরা ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান তুললাম। সেদিন দেশের জন্য অন্যরকম এক অনুভূতি নিয়ে ফিরছিলাম। বুঝেছিলাম সংগ্রাম ছাড়া মুক্তি নেই।’’

আপনারা তখন কী করলেন?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে সাতদিনের ট্রেনিং দেওয়া হয় আমাদের। মন্টু ভাই ছিলেন ট্রেনার। ফিরে এসে নিজ উদ্যোগে বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভেতর আমি ২৭ জনকে কাঠের রাইফেল দিয়ে ট্রেনিং করাই।’’

মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে আমির হোসেন বলেন, ‘‘আলব্দী গ্রামের হত্যাযজ্ঞ আমাকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। তখনই সিদ্ধান্ত নিই মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার। কিন্তু বাবা-মা টের পেয়ে যান। আমাকে আটকে রাখতে তারা আমায় বিয়ে করিয়ে দেন। কিন্তু সে মায়ার বাঁধনও আমাকে আটকাতে পারেনি। বিয়ের সতের দিনের মাথায় আমি গোপনে বাড়ি ছাড়লাম। মায়ের কোমরের বিছা আর ৫৬ টাকা ছিল সম্বল।’’

কোথায় ট্রেনিং করলেন?

‘‘সময়টা মে মাসের মাঝামাঝি। মহির উদ্দিন, আবু নাসের, আবদুল হালিম, ফজল হক ও সাত্তারসহ নৌকাযোগে আমরা আমিনবাজার হয়ে আসি কেরানিগঞ্জে। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা মান্নান আমাদেরকে একটি চিঠি লিখে দেন। কামারের দোকানে রুপার একটা তাবিজ বানিয়ে তার ভেতর রাখি ওই চিঠি। তাবিজটি আমার গলায় ছিল। সদরঘাট থেকে কুমিল্লা দশআনির মোহরপুর হয়ে আমরা পৌঁছি কুমিল্লা কাইতলায়। চিঠি দেখিয়ে ও মাথাপিছু ৬ টাকার বিনিময়ে সেখানে ওদুদ মিয়া নামে এক লোক আমাদের পৌঁছে দেয় ভারতের আগরতলায়।

খয়েরপুর দুর্গা চৌধুরীপাড়া ইছামতি বিজনা ক্যাম্পে নাম লেখাই আমরা। সেখান থেকে আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় আসামের কাছাড় জেলার লায়লাপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে। সেখানে ছিল তিনটি ক্যাম্প। এম উইং, এন উইং ও টি উইং। এম (মুজিব) উইং-এ আমি ছিলাম ৬ নং স্কোয়াড আলফা কোম্পানিতে। আমাদের ট্রেনিং হয় ২৮ দিন। ২১ দিন অস্ত্র ও ৭ দিন গেরিলা ট্রেনিং। আমার এফএফ নাম্বার ছিল ৯১৯৯৭। ট্রেনিং শেষে মেলাঘরে আমাদের শপথ করান কর্ণেল আতাউল গনি ওসমানী।’’

কোথায় কোথায় যুদ্ধ করলেন?

মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন বলেন, ‘‘আমরা ছিলাম গেরিলা। আক্রমণ করেই সরে পড়তাম। ২১ জনের দলে আমাদের কমান্ডার ছিলেন মো. হানিফ। সহকারী কমান্ডার মো. রফিক। আমি ছিলাম উত-কমান্ডার (অস্ত্র রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার)। অস্ত্র জমা রাখা হত আমার কাছে। ২ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দারের নির্দেশে আমরা যুদ্ধ করি মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায়। সাদুল্লাপুর বাজার, বাটুলিয়া গ্রাম, আরিচা থেকে আমিনবাজার ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা দখল, নতুন বিমানবন্দর এলাকায় ২৮ রাজাকার আটক প্রভৃতি অপারেশনের কথা আজও মনে পড়ে।’’

গুলিবিদ্ধ হলেন কোন অপারেশনে?

প্রশ্ন শুনে মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা আবেগাপ্লুত হন। অতঃপর বলতে থাকেন, ‘‘১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১। মিরপুর তখনও স্বাধীন হয়নি। আমরা ছিলাম বিরুলিয়ার একটি বাড়িতে। ত্রিশ-বত্রিশজন। রাত তখন ২ টা। হঠাৎ খবর আসে বিরুলিয়া ঘাটে পাঞ্জাবি আসার। আমরা দ্রুত সেখানে পজিশন নিই।

ঘন কুয়াশা। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। ভোর হতেই দেখলাম নদীর দিকে কুয়াশাভাঙা রাস্তা। জেলেরাও বলল, ওই পথেই গেছে ৭ জন পাঞ্জাবি। নদীর তে-মোড়ায় (ত্রিমোহনা) গিয়ে আমরা তাদের অ্যাটাক করব, এমনটাই ছিল পরিকল্পনা। তুরাগ পার হয়ে আমরা চকের মধ্যে চলে আসি। আমাদের নেতৃত্বে সহকারী কমান্ডার রফিক। তিনটি দলে আমরা তিনদিকে এগোই। আমি পূর্বপার্শ্বে। সঙ্গে সাত্তার ও মহিউদ্দিন। পাঁচজন গেল পশ্চিম পাশ দিয়ে। রফিক কমান্ডার চারজনকে নিয়ে এগোয় মাঝ বরাবর।

আমরা পাঞ্জাবিদের ১৫০ গজের মধ্যে চলে আসি। হঠাৎ পূর্বদিকের বোটানিক্যাল গার্ডেনের শেষ অংশে জন্দী রাডার ক্যাম্প থেকে বৃষ্টির মতো গুলি আসতে থাকে। পাকিস্তানি সেনা, রাজাকার ও বিহারিদের শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল সেটি। আমাদের লক্ষ্য করে তারা মর্টার নিক্ষেপ করে। আমরাও গুলি ছুঁড়ি। কিন্তু তোপের মুখে টিকতে পারি না।

ঘণ্টাদুয়েক চলে গোলাগুলি। হঠাৎ পেছন দিকে ‘মাগো’ বলে পানিতে ছিটকে পড়ে সাত্তার। তাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যায় মহিউদ্দিন। আমি তখনও কাদার মধ্যে লাইন পজিশনে। গুলি ছুঁড়ছি। ক্রলিং করে মহিউদ্দিন সামনে আসে। জানায় সাত্তারের মৃত্যুসংবাদটি। মাথায় গুলি লেগেছিল তার।

আমি মহিউদ্দিনকে পজিশন নিতে বললাম। হঠাৎ সে চিৎকার দিয়ে বলে, ‘তোর হাঁটুতে রক্ত।’ কখন যে গুলি লেগেছে টেরই পাইনি। গুলিটি আমার ডানপায়ের হাঁটু দিয়ে ঢুকে উরু দিয়ে বের হয়ে ডানহাতের বাহু ভেদ করে রেরিয়ে যায়। দেখলাম, রক্তে ভিজে গেছে গোটা পা। হাড়ের হলুদ মজ্জাগুলো বেরোচ্ছিল তখন। আমি স্থির হয়ে যাই। মনে তখন মৃত্যুভয়। অবশ হয়ে যাচ্ছিল ডানহাত। ডানপাও নাড়াতে পারছিলাম না। শরীর শুধুই ঘামছিল। ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসে চোখদুটো।

নৌকায় করে আমাকে নেওয়া হয় বিরুলিয়ায়। নবীউল্লাহ নামে এক গ্রাম্য ডাক্তার কাঁথা সেলাইয়ের সুই দিয়ে আমার পা সেলাই করে। আমি তখনও অজ্ঞান। জ্ঞান যখন ফিরল তখন ঢাকা মেডিকেলে। ওই অপারেশনে দুজন পাঞ্জাবি নিহত এবং ৫ জন সারেন্ডার করেছিল।’’

যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন

যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন

যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন

বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমার বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমির হোসেন নিজের মতামতটি তুলে ধরেন অকপটে। তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধক্ষেত্রে কেউ সারেন্ডার করলে তাকে ক্ষমা করা হয়। সে হিসেবে ছোট ছোট অপরাধে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের বঙ্গবন্ধু সাধারণ ক্ষমা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ক্ষমা করলেও তারা তো বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমা করেননি। তাই আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু ভুল করেছিলেন। এই ভুলের মাসুল তাকে দিতে হয়েছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন সত্যি। কিন্তু স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে রাজাকারদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি কোনোদিনও জাতির কাছে ক্ষমা পাবেন না। তার দলের হাত ধরেই এদেশের রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী হয়েছে রাজাকাররা। জাতির জন্য ওটা ছিল কলঙ্কজনক অধ্যায়।’’

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা বর্তমানে ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘যারা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করেছে তারা নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও অস্ত্র জমা দিয়েছেন। স্বাধীনের পরেই ওই তালিকা নিয়েই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা যেত। যারা প্রশিক্ষণ নেয়নি কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তাদের অবদানও কম ছিল না। তাই তালিকা না বাড়িয়ে তাদের আলাদা তালিকা তৈরি করা যেত।’’

তিনি মনে করেন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নয়, বরং স্বাধীনতার পরেই রাজাকারদের তালিকা করা উচিত ছিল।

এদেশের সন্তানরা যখন সারা পৃথিবীতে সফল হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ায় তখন আনন্দে মন ভরে যায় এ বীর মুক্তিযোদ্ধার। খারাপ লাগার অনুভূতি জানাতে তিনি বলেন, ‘‘ক্ষমতার জন্য যখন রাজনীতিবিদরা হানাহানিতে লিপ্ত হয়, দেশের বিরুদ্ধে যখন তারা কথা বলে, তাতে দেশেরই ক্ষতি করে– তখন খুব খারাপ লাগে।’’

কথা ওঠে তরুণ প্রজন্মের জেগে ওঠা নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘‘কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে এমনটাই আশা সবার। কিন্তু বিচারের রায় যখন অন্যদিকে যাচ্ছিল তখনই জেগে ওঠে তরুণরা। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে তারা গড়ে তুলে গণজাগরণ মঞ্চ। বিচার না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চয়ই এ তরুণরা সজাগ থাকবে।’’

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে আশা নিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘‘তোমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত কর না। ন্যায়ের পক্ষে আর অন্যায়ের বিপক্ষে থেক। তোমরা দেশের প্রতি থেক আস্থাশীল। দেশ হল মা। মায়ের মতোই তাকে ভালোবেস।’’

সংক্ষিপ্ত তথ্য

নাম : যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আমির হোসেন মোল্লা
ট্রেনিং নেন : আসামের কাছাড় জেলার লায়লাপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে। এম (মুজিব) উইং-এ তিনি ছিলেন ৬নং স্কোয়াড আলফা কোম্পানিতে
এফএফ নং : ৯১৯৯৭
যুদ্ধ করেছেন : ২ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডারের অধীনে যুদ্ধ করেন মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায়
যুদ্ধাহত : ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১। সকালে। বোটানিক্যাল গার্ডেনের শেষ অংশে জন্দী রাডার ক্যাম্প থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাদের একটি গুলি তার ডানপায়ের হাঁটু দিয়ে ঢুকে উরু দিয়ে বের হয়ে ডানহাতের বাহু ভেদ করে রেরিয়ে যায়।

ছবি: সালেক খোকন


সালেক খোকন: লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক।

Tags: একাত্তরে কাদের মোল্লার ভূমিকা,  কাদের মোল্লার ফাঁসিযুদ্ধাপরাধের বিচারযুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা

This entry was posted on সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৩ at ৩:২৭ অপরাহ্ণ and is filed under মুক্তিযুদ্ধ. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0 feed.

WARNING: Any unauthorised use or reproduction of bdnews24.com content for commercial purposes is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.

Source: http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/11962

Aside

  • খুঁজে পাওয়া চাই
    – আশিস

    চাইলেই ভালবাসা পাবো,
    এমনতো কেউ নেই
    কেউ চাইলেও
    আমার তো খোঁজ নেই

    দুজনার পথ একপথে এসে
    মিললেই তো হবে না
    হাঁটতেও হবে বহুদূর

    তারপর হাঁটতে হাঁটতে
    চলতে চলতে
    হাতে হাত ধরে
    তারপর পথ চলে
    ভালবাসা হতে পারে

    তারপর হাঁটতে হাঁটতে
    সবুজ পাহাড়, সাগর, সবুজ
    শিশিরের ছোঁয়া পেলে
    ভালবাসা গভীর হতে পারে

    ভালবাসা চাইলেই তো হবে না
    তোমার খোঁজ তো পেতে হবে
    আর আমাকেও তো তোমার খুঁজে পাওয়া চাই…
    তারপর না পথচলা…
    …………………………..
    Image

Indians turn to Hindu goddesses to help fight sexual predators – thestar.com


Image

 

The Hindu goddess Durga (Save The Children India).

Can three Hindu goddesses help curb the rash of sexual assaults in India?

With the country in a full-blown crisis as each week brings news of another gang rape or despicable sexual assault, the non-profit Save The Children India is out with a new ad campaign that it hopes will prompt some aggressors to think twice. (The ad already has its critics, who argue the posters won’t give anyone pause.)

The ads, created by Indian ad agency Taproot and described in a story by India Today, feature Saraswati, the goddess of knowledge, learning and the arts; Lakshmi, the goddess of prosperity; and Durga, a warrior goddess who is often pictured with a lion, holding a gold trident in one of her eight hands.

The goddesses are shown with black eyes and bruises, cuts on their cheeks, drops of blood tearing down their faces. (The ads creators might have considered depicting Durga using her weapon and lion to get some form of creative revenge on her attacker.)

 Image

The Hindu goddess Lakshmi (Save The Children India).

“The challenge that the agency faced was how to create a campaign that hit where it hurts the most?” India Today reports. “Inspiration came from the traditional posters that are seen and worshipped across the country. The idea was to take the images of the goddesses the people prayed to and turn them into something that would shock and bring to attention the reality of domestic violence against women.”

Image 

The Hindu goddess Saraswati (Save The Children India).

India Today writes that the campaign “simply and effectively captured India’s most dangerous contradiction: that of revering women in religion and mythology even as the nation remained incredibly unsafe for its women citizens–remember the December 16 Delhi gangrape and more recently, the Mumbai Shakti Mills gangrape, or the numerous cases of rape that are reported from across the country every day?”

Opinions of the new ads are mixed.

 One reader named Padmanabhan Jaikumar writes: “These Bruised, battered… these images of goddesses will have no effect on rapists in India particularly persons like Asaram or Delhi and Mumbai gang rapist. If they get a chance wont hesitate to bruise and  molest a women in front of the Goddess too.”

It’s hard to say with certainty just how many women in India are forced to deal with the scourge of rape.

 As Australian journalist Amanda Hodge points out in a recent column for The Australian newspaper, the India media typically give front-page treatment to the rapes of middle- and upper-class Indians, but more often than not overlook the sexual assaults of lower-class women.

Rick Westhead is a foreign affairs writer at The Star. He was based in India as the Star’s South Asia bureau chief from 2008 until 2011 and reports on international aid and development. Follow him on Twitter @rwesthead

http://thestar.blogs.com/worlddaily/2013/09/indians-turn-to-hindu-goddesses-to-help-fight-sexual-predators.html